Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

মানবতাবিরোধী অপরাধে হানিফের মৃত্যুদণ্ড, অন্য তিন আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর,২০২৬, ০১:৫৯ পিএম
মানবতাবিরোধী অপরাধে হানিফের মৃত্যুদণ্ড, অন্য তিন আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলার অপর তিন আসামিকে আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দণ্ডিত এই চার আওয়ামী লীগ নেতার অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আজ বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন। এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া তিনজন হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী এবং কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান।

হানিফসহ দণ্ডিত চার আসামিই পলাতক।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়। তিনটি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৫, ১৭ ও ৩০ জুলাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে উপস্থিত থেকে তাঁর (কাদের) উসকানিমূলক বক্তব্যকে সমর্থন করেন হানিফ। এ ছাড়া ২৯ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী, সাম্প্রদায়িক ট্যাগ দিয়ে হত্যা ও নির্যাতনের নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা ও সহায়তা দেন তিনি।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, হানিফের নির্দেশে ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সদর উদ্দিন খান, আসগর আলী ও আতাউর রহমানসহ অন্য আওয়ামী লীগের নেতারা সভা করেন। সে সভায় নিরীহ–নিরস্ত্র ছাত্র–জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সভা থেকে কুষ্টিয়া শহরে আন্দোলন দমনে সর্বোচ্চ বল প্রয়োগের জন্য আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তৃতীয় অভিযোগ হলো, এই মামলার চার আসামির নির্দেশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের সন্ত্রাসীরা ছাত্র–জনতার ওপর গুলি চালায়। তাদের গুলিতে সেদিন ছয়জন শহীদ হন। তাঁরা হলেন আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী, আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, বাবুল ফরাজী ও ইউসুফ শেখ।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৫ মার্চ এই মামলার তদন্ত শুরু হয়েছিল। একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত সংস্থা। পরে ট্রাইব্যুনালে ৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ২ নভেম্বর এই মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

গত বছরের ৮ ডিসেম্বর সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। সেদিনই সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ হয়।

এ মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হয় ১০ জুন। সেদিনই ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায় ঘোষণার অপেক্ষায় রাখেন। পরে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আরও সাক্ষী ও নথিপত্র হাজির করা হয়। নতুন সাক্ষী, নথিপত্রের ওপর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। ৭ অক্টোবর যুক্তিতর্ক সমাপ্ত হয়। এরপর আবার মামলাটি রায় ঘোষণার অপেক্ষায় রাখা হয়। গত মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল–২ আদেশ দেন, বৃহস্পতিবার (আজ) এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। সে অনুযায়ী আজ রায় হলো।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)