নিজস্ব প্রতিবেদক
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন স্বাধীনের মা সুমাইয়া আক্তার। ছবি: ধ্রুব নিউজ
চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ১৬ বছরের কিশোর মো. স্বাধীনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় চরম ক্ষোভ ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার পরিবার। ঘটনার এতদিন পার হয়ে গেলেও এজাহারভুক্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন নিহত স্বাধীনের শোকার্ত মা।
আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত স্বাধীনের মা সুমাইয়া আক্তার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ১৮ অক্টোবর স্বাধীন যশোর শহরের বারান্দী মোল্লাপাড়া এলাকায় তার দাদির বাড়িতে বেড়াতে যায়। পরদিন ১৯ অক্টোবর রাতে ফুফা মো. জীবনের সঙ্গে এলাকার দুর্গাপূজা দেখতে বের হয় সে। রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে মোল্লাপাড়া এলাকার একটি মন্দিরের পাশের গলিতে কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরে চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করে।
রাত সাড়ে ১২টার দিকে খবর পেয়ে স্বাধীনের পরিবার তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করতে গেলে এজাহারভুক্ত আসামিরা বাধা দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরবর্তীতে মুমূর্ষু অবস্থায় স্বাধীনকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং সর্বশেষে আইসিইউ ও লাইফ সাপোর্টের জন্য রাজধানীর ‘হোম কেয়ার মেডিকেলে’ ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ অক্টোবর রাত আড়াইটার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে কিশোর স্বাধীন।
সন্তান হারানোর পর গত ২৪ অক্টোবর নিহত স্বাধীনের মা সুমাইয়া আক্তার বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলার ধারা: ৩০২/৩৪)।
তবে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে মা সুমাইয়া আক্তার বলেন, “মামলা দায়েরের এতদিন পরেও পুলিশ কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। একজন মা হিসেবে আমার প্রশ্ন—সন্তানকে হারানোর পর কেন আমাকে ন্যায়বিচারের আশায় বসে থাকতে হবে? কেন অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াবে?”
সংবাদ সম্মেলন থেকে নির্দোষ কোনো ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হয় তা উল্লেখ করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে ৪টি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়:
১. স্বাধীনের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন (পোস্টমর্টেম রিপোর্ট) অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করা।
২. পুলিশ প্রশাসন কর্তৃক সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা।
৩. হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেক অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি শাস্তি নিশ্চিত করা।
৪. প্রভাবশালীদের সম্ভাব্য হুমকি থেকে ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেওয়া।