কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
হামলার স্বীকার গৃহবধূ ছবি: এআই প্রণীত
কুপ্রস্তাবে রাজি না হয়ে প্রতিবাদ করায় প্রকাশ্য দিবালোকে এক গৃহবধূকে (৪৫) শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও বিবস্ত্র করার অভিযোগ উঠেছে। ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার জয়দিয়া পালপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় বিচার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করায় রাতে ভুক্তভোগীর বসতবাড়ি ভাঙচুর ও তার ভাইকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, জয়দিয়া পালপাড়ার বাসিন্দা এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার ওই ভুক্তভোগী গৃহবধূকে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ওই গৃহবধূ তার এক আত্মীয়ের বাড়ি যাওয়ার পথে রাস্তার মোড়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার পথরোধ করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। ঘটনার প্রতিবাদ করায় অভিযুক্তের তিন ছেলে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পরিকল্পিতভাবে গৃহবধূর ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে এবং লাঞ্ছিত করে। এ সময় তার কানের দুল, গলার চেইন এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আহত অবস্থায় ওই দিন বিকেলেই ভুক্তভোগী গৃহবধূ স্থানীয় সাফদারপুর পুলিশ ফাঁড়িতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ফাঁড়ি থেকে বাড়ি ফেরার পর, গভীর রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা ভুক্তভোগীর বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ সময় বোনকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার ভাই গুরুতর আহত হন।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ অভিযোগ করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে লোকলজ্জা ও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তিনি এসব অত্যাচার সহ্য করে আসছিলেন। ঘটনার দিন চরম ধৈর্য হারিয়ে প্রতিবাদ করায় তার ওপর এই নির্যাতন চালানো হয়েছে। থানায় অভিযোগ করায় রাতে ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং তার ভাইকে জখম করা হয়েছে। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, "আমাদের সাথে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছিল মাত্র। পারিবারিক শত্রুতার জেরে আমাদের ফাঁসাতে এসব অসত্য অভিযোগ করা হচ্ছে।"
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তের দাবিকে অসত্য বলে উল্লেখ করেছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় প্রায়ই এ ধরনের বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে। শ্লীলতাহানি ও পুরো পরিবারের ওপর হামলার ঘটনায় দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সাফদারপুর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর এবং একজন নারীর ওপর এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক থাকলেও, তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।