নিজস্ব প্রতিবেদক
আটক সোহেল রানা ছবি: ধ্রুব নিউজ
বেনাপোলের নৈশপ্রহরী ইউনুচ আলী হত্যা মামলায় আটক আসামি সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ইয়াবার সাথে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে ইউনুচকে হত্যা করা হয়েছিল বলে সে জানিয়েছে। এ ঘটনার সাথে নিজে এবং অপর জড়িতদের নাম উল্লেখ করে আদালতে এই জবানবন্দি দেয় সোহেল রানা।
সোমবার আসামির জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল। জবানবন্দি দেওয়া আসামি সোহেল রানা বেনাপোলের রহমতপুর গ্রামের কুদ্দুস সিকদারের ছেলে। এর আগে, রোববার রাতে শার্শার গোগা বাগানপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করে পিবিআই যশোরের সদস্যরা।
আসামি সোহেল রানা জানায়, ঘটনার রাতে আনোয়ার ও ইউনুস তার বাড়িতে আসে। আনোয়ার তাকে ১০টি ইয়াবা কিনে আনতে বললে সে তা এনে দেয়। এর মধ্যে একটি ইয়াবা সোহেল নিজে সেবন করে এবং বাকি নয়টি ইয়াবা তারা দুজন সেবন করে। ইয়াবার সঙ্গে ইউনুসকে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেওয়ায় সে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে ইউনুচের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়।
নিহত নৈশপ্রহরী ইউনুস আলী (৪৭) ছোট আঁচড়া গ্রামের মৃত মোস্তাব আলীর ছেলে। চলতি বছরের ২২ এপ্রিল কৌশলে ইউনুস আলীকে বাড়ি থেকে ডেকে রহমতপুরের একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আনোয়ার, সোহেলসহ কয়েকজন মিলে তাকে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতন করে। একপর্যায়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর সবুজের মোটরসাইকেলে করে মরদেহ নিয়ে বেনাপোল-পুটখালী সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই ইউসুফ আলী বাদী হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ ও পরে পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব পায়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই’র এসআই রতন মিয়া এ হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তরিকুল ইসলাম ও সবুজকে আটক করেন। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোহেল রানাকে আটক করা হয়।
পারিবারিক জটিলতা ও পূর্বের দাম্পত্য বিরোধকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। নিহতের স্ত্রী তাসলিমা খাতুনের সঙ্গে একই এলাকার আনোয়ার হোসেনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে বিয়ে, বিচ্ছেদ এবং পুনরায় সংসার—এসব ঘটনার জেরে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জেরে পরিকল্পনা করেই ইউনুচ আলীকে হত্যা করা হয়।