নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে অভিযান চালিয়ে আটক সাত মাদক কারবারিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা প্রদানের ঘটনায় আইনগত সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই অলক কুমার দে-কে সার্বিক তথ্য উল্লেখ করে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর নজরে আসার পর বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) যশোর সদর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল স্ব-প্রণোদিত (সুয়োমোটো) হয়ে এই আদেশ প্রদান করেন (মিস কেস নং-০৩/২০২৬)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের স্টেনোগ্রাফার আনন্দ ঘোষ।
আদালতের আদেশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই যশোরের একাধিক স্থানীয় দৈনিকে ‘যশোরে ৭ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, উপশহর এলাকায় রাতে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ও গাঁজাসহ সাতজনকে আটক করে পুলিশ। পরদিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাওমীদ হাসান পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা করেন। পরবর্তীতে ১ আগস্ট ‘রাতদিন নিউজ’-এর একটি ভিডিও চিত্রে বিরামপুরের সুমন ও খয়েরতলার আকরাম মণ্ডল নামের দুই মাদক কারবারিকে আটকের দৃশ্যও দেখা যায়।
পত্রিকা ও গণমাধ্যমের এসব তথ্য বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয় যে, উল্লিখিত অভিযানগুলো পরিচালনা করেছিলেন উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই অলক কুমার দে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাগুলোতে কোনো নিয়মিত এজাহার দাখিল, বিধি মোতাবেক জব্দতালিকা প্রস্তুত এবং আসামিদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল কি না—তা খতিয়ে দেখতে বিচারক এই আদেশ দেন। পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে বিস্তারিত তথ্যসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।