নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: ধ্রুব নিউজ
মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে আজ প্রেসক্লাব যশোরের সামনে দাড়িয়ে দিল্লির ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সংহতি জানানো হয়েছে।‘দিল্লির ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সংহতি কমিটি, যশোর’ এর কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ছাত্র ইউনিয়ন, যশোর জেলা সংসদের সভাপতি রাশেদ খান। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “দিল্লির রাজপথে ছাত্র-জনতার ওপর যে দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে, তা শুধু একটি সরকারের রাজনৈতিক সংকটের বহিঃপ্রকাশ নয়; এটি গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। শান্তিপূর্ণভাবে দাবি উত্থাপন করা কোনো অপরাধ নয়। বরং জনগণের কণ্ঠরোধ করতে রাষ্ট্রীয় শক্তির ব্যবহার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে দুর্বল করে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—যেখানে তরুণ সমাজ ন্যায় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাস্তায় নেমেছে, সেখানে দমন-পীড়ন শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। ছাত্র-জনতার ন্যায্য দাবিকে লাঠিচার্জ, গ্রেপ্তার ও ভয়ভীতি দিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না। দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই দিল্লির আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার প্রতি সংহতি জানানো শুধু সহমর্মিতা নয়, এটি গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে একটি নৈতিক অবস্থান। আমরা অবিলম্বে পুলিশি দমন-পীড়ন বন্ধ, আটক আন্দোলনকারীদের মুক্তি এবং মতপ্রকাশ ও সংগঠিত হওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাই।”
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কমরেড খবির শিকদার। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “গণতান্ত্রিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের ন্যায্য আন্দোলনের ওপর রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন কোনো দেশের জনগণের সংগ্রামকে থামিয়ে রাখতে পারে না। দিল্লিতে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা শুধু ভারতের একটি ঘটনা নয়, এটি গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতার প্রশ্ন। জনগণের ন্যায্য দাবিকে লাঠিচার্জ, গ্রেপ্তার কিংবা ভয়ভীতি দিয়ে কখনো স্থায়ীভাবে দমন করা যায় না। দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। তাই দিল্লির আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার প্রতি সংহতি জানানো আমাদের গণতান্ত্রিক ও নৈতিক দায়িত্ব। আমরা অবিলম্বে দমন-পীড়ন বন্ধ, আটক আন্দোলনকারীদের মুক্তি এবং মতপ্রকাশ ও সংগঠিত হওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাই।”
এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন কর আইনজীবী এহসানুল হক সিয়াম, ছাত্রনেতা ইব্রাহিম খলিল, শিক্ষক নেতা খানজাহান আলী শান্ত এবং বাসদ নেতা উজ্জ্বল বিশ্বাস-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ থেকে বক্তারা বলেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর যেকোনো আঘাতের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশের সকল গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তারা দিল্লির আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে পুলিশি দমন-পীড়ন বন্ধ, নির্বিচার গ্রেপ্তার প্রত্যাহার, আটক আন্দোলনকারীদের মুক্তি এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। সমাবেশ শেষে সংহতি কমিটির পক্ষ থেকে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার সংগ্রামের প্রতি অব্যাহত সমর্থন ও সংহতি ঘোষণা করা হয়।