নিজস্ব প্রতিবেদক
মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগ যশোর আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষ মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ছবি: ধ্রুব নিউজ
বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার সমগ্র জনগণের মুখে হাসি ফোটাতে কাজ করছে। দীর্ঘ দিন পর জনগণ ভোট দিয়ে এই সরকারকে নির্বাচিত করেছে। অতীতে জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে অসাধু কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতাদের মেলবন্ধনে তাদের অর্থ লোপাট হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময় জনগণের অর্থ নয়-ছয় করার কোনো সুযোগ নেই। জনগণের প্রাপ্য টাকা জনগণকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। আমরা কোনো ব্যক্তি বিশেষ নয়, সমগ্র জনগণের মুখে হাসি ফোটাতে চাই।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, পল্লী উদ্যোক্তা ঋণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার সামগ্রী, কৃষি উদ্যোক্তাদের মাঝে প্রক্রিয়াজাতকরণ সরঞ্জামাদি, নগদ অর্থ সহায়তা ও শুকনো খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সদর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি কখনো উন্নয়নে বৈষম্য করে না। উন্নয়নের জন্য হিন্দু বা মুসলিমের মধ্যে পার্থক্য কিংবা ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিশ্বাস বিবেচনা করে না। আমার যখন অনুদান দেওয়ার সময় এসেছে, দুটি অনুদানের একটি কারবালা কবরস্থানে এবং অন্যটি নীলগঞ্জ মহাশ্মশানে দিয়েছি। অতীতে কার্ড পাওয়ার জন্য প্রভাবশালীদের কাছে ধরনা দিতে হতো। প্রধানমন্ত্রী এই সংস্কৃতি বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছেন। তাই তিনি সবার জন্য 'ফ্যামিলি কার্ড' বা পারিবারিক কার্ড নিশ্চিত করতে চান। এখানে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে কেউ কার্ড পাবে আর কেউ পাবে না, এমনটা হওয়ার সুযোগ নেই। প্রকৃত ব্যক্তিরাই কার্ড পাবেন। আমরা মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে রাজনীতি করি। রাজনীতি করতে এসে নয়-ছয় করব, মিথ্যাচার করে ভোট নিয়ে জনগণের আমানতের খেয়ানত করব—এটা বিএনপির রাজনীতি নয়।
প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী অঙ্গীকার মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। যশোরকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে রাজনৈতিক বা সামাজিক শক্তি যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, এমনকি সেটি আমার নিজ দলের কেউ হলেও কোনো আপস করা হবে না। মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল করতে গিয়ে প্রশাসনের যেসব কর্তা ব্যক্তি ব্যর্থ হবেন, আপনাদের নতুন ঠিকানা খুঁজে নিতে হবে। এ সময় প্রতিমন্ত্রী যশোর সদর উপজেলার প্রতিটি স্কুল ও কলেজে পর্যায়ক্রমে কম্পিউটার ল্যাব আধুনিকায়ন এবং লাইব্রেরিতে নতুন বই সংগ্রহের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ সহায়তার ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে প্রতিমন্ত্রী যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জন্য ১০০টি ফ্যান, ১০টি ট্রলি ও ১০টি হুইলচেয়ার হস্তান্তরের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী সেবা কেন্দ্রে ১০টি হুইলচেয়ার তুলে দেন। এছাড়া ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাবের জন্য ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফটোকপি মেশিনসহ ডিজিটাল ডিভাইস, ১৭৫ জনের মাঝে নগদ ৪ হাজার টাকা করে, ১০ জনের মাঝে গৃহ নির্মাণের চেক, ৫০ জন দরিদ্র ব্যক্তির মাঝে খাদ্য সামগ্রী, ৩ জন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার মাঝে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা করে ঋণের চেক এবং ৬ জন কৃষি উদ্যোক্তার মাঝে প্রক্রিয়াজাতকরণ সরঞ্জামাদি বিতরণ করেন।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী উপজেলা পরিষদ চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন। পরে তিনি জেলা শহরের মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগ যশোর আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষ মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে মেলার স্টল মালিকদের বেচাকেনা আশানুরূপ না হওয়ায় তাদের বিশেষ অনুরোধে প্রতিমন্ত্রী মেলার সময়সীমা আরও দুই দিন বৃদ্ধি করেন। ফলে আগামী রোববার মেলা শেষ হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় এবং আগামী প্রজন্মকে নিরাপদ রাখতে নতুন করে গাছ লাগানো ও সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিকে সফল করার বিকল্প নেই। দেশকে বসবাসযোগ্য এবং আগামী প্রজন্মের কাছে নিরাপদ বাংলাদেশ হিসেবে উপহার দিতে গাছ লাগাতে হবে। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, নিজের সন্তানের মতো সেটির যথাযথ পরিচর্যাও করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বৃক্ষমেলা উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের পাশাপাশি মেলার শ্রেষ্ঠ স্টল ও উদ্যোক্তাদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করা হয়। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় 'ক' বিভাগে সাবিহা কবির অরিন প্রথম, মাজাবি জাহান অপ্সরা দ্বিতীয় ও আদিলা রসুল তৃতীয় স্থান অর্জন করে। 'খ' বিভাগে আয়ান রেজা প্রথম, মারিয়া নাহার দ্বিতীয় ও জেসমা উম্মে দিনা তৃতীয় স্থান অর্জন করে। 'গ' বিভাগে সেজুতি বিশ্বাস প্রথম, সিফাত আহমেদ লাবিব দ্বিতীয় ও রাহুল সরকার তৃতীয় স্থান অর্জন করে।
এছাড়া মেলার স্টল মালিকদের মধ্যে হাজেরা নার্সারি প্রথম, সবুজ নার্সারি দ্বিতীয় ও তন্দ্রা নার্সারি তৃতীয় স্থান অর্জন করে। বিশেষ উদ্যোক্তা ক্যাটাগরিতে বিসমিল্লাহ বনসাই প্রথম, পথিক কর্নার দ্বিতীয় এবং প্ল্যান্ট হাউস তৃতীয় স্থান অর্জন করে।
পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন সাফায়াত, যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সাবেক সহ-সভাপতি গোলাম রেজা দুলু, যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মিজানুর রহমান খান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হক, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অমিতা মন্ডল, যশোর ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক এ.জেড.এম সালেক, নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক আবদার হোসেন খান এবং সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকনসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।