নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে রোববার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয় ছবি: ধ্রুব নিউজ
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে যশোর জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। রোববার সকাল ৮টায় মসজিদ প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। যশোর ইসলামিক ফাউন্ডেশন জেলা কার্যালয় ও মডেল মসজিদ কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে এই পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
অভিযানে অংশ নেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন যশোরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মডেল মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। হাতে ঝাড়ু ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সরঞ্জাম নিয়ে তারা মসজিদের মূল নামাজের স্থান, বারান্দা, অজুখানা, সিঁড়ি, ছাদ এবং পার্কিং এলাকা পরিষ্কার করেন। শুধু ভবন নয়, মসজিদের চারপাশের আঙিনা ও বাগানের গাছপালারও বিশেষ পরিচর্যা করা হয়।
পরিচ্ছন্নতা অভিযান সম্পর্কে উপপরিচালক বিল্লাল বিন কাশেম বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মসজিদ শুধু ইবাদতের জায়গা নয়, এটি নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতার কেন্দ্র। আমরা চাই মডেল মসজিদকে একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে, যেখানে মানুষ পরিচ্ছন্নতা ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা পাবে।” তিনি আরও জানান, এটি কেবল এক দিনের কর্মসূচি নয়, বরং নিয়মিতভাবে এই অভিযান পরিচালনা করা হবে।
একই সুরে কথা বলেন মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মঈনুদ্দিন। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা যে ঈমানের অংশ, তা আমাদের যাপিত জীবনে ফুটিয়ে তুলতে হবে। নিজের ঘরবাড়ির মতো মসজিদের পরিবেশ সুন্দর রাখা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।
স্থানীয় মুসল্লিরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের মতে, পরিচ্ছন্ন পরিবেশে ইবাদত করলে মনে প্রশান্তি আসে। তারা আশা করেন, এই মডেল মসজিদটি ব্যবস্থাপনার দিক থেকেও সারা দেশের জন্য একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, আগামীতে জুমার খুতবা ও ধর্মীয় আলোচনায় পরিবেশ রক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়গুলো আরও গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি সমাজের প্রতিটি স্তরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্বাস সংশ্লিষ্টদের।