নিজস্ব প্রতিবেদক
আলোচিত মাহমুদা ছবি: সংগৃহীত
যশোরের আলোচিত মাহমুদা কাণ্ডকে কেন্দ্র করে আদালত ভবনের ভেতরে ভুক্তভোগী ও মাহমুদার স্বজনদের মধ্যে দফায় দফায় মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুরে পাল্টাপাল্টি মারধরের জেরে আদালত প্রাঙ্গণে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুরাতন কসবার হেদায়েত হোসেনের ছেলে ইমরানকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, প্রতারণার মামলায় আটক মাহমুদা জামানের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এজলাসের সামনে থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে মাহমুদার ভাই জনৈক এক ভুক্তভোগী নারীর শ্লীলতাহানি ঘটান বলে অভিযোগ ওঠে। এসময় অন্যরা এসে পাল্টা হামলা চালালে সিঁড়িতে পড়ে মাহমুদার ভাই আহত হন। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কোর্ট পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মারামারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে ভুক্তভোগী পক্ষের দুই নারীসহ তিনজনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে আটকদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দের নির্দেশ দেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক রায়হানকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন এবং আটক অপর দুই নারীকে মুচলেকা নিয়ে মুক্তি দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ফাইনারা বর্না জানান, সোমবার মাহমুদার বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলার রিমান্ড ও জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিল। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এজলাস থেকে বের হওয়ার পর সিঁড়ির কাছে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়ে মারামারিতে রূপ নেয়।
উল্লেখ্য, কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত ৭ মার্চ মাহমুদাকে ভুক্তভোগীরা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ওইদিনই থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে আদালতে তার বিরুদ্ধে আরও নয়টি মামলাসহ অসংখ্য প্রতারণার অভিযোগ জমা পড়ে।