ধ্রুব নিউজ
ছবি: প্রতীকী
যশোর জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে সাড়ে ১১ লাখ ভোট পেয়ে ‘হ্যাঁ’ জয়লাভ করেছে। তবে জেলাজুড়ে প্রায় ৫ লাখ ‘না’ ভোট এবং দেড় লাখের মতো ভোট বাতিল হওয়ায় জনমনে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। বিপুল পরিমাণ ‘না’ ভোট পড়ায় অনেকেই হতবাক হলেও জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় ভোটাররা আশাবাদী যে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে নতুন সংস্কার বাস্তবায়িত হবে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গণভোটে জেলায় মোট ১৭ লাখ ৬৭ হাজার ৬৫৪টি ভোট পড়েছে (প্রদত্ত ভোটের হিসেবে)। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে ১১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৫২ ভোট পেয়ে। বিপরীতে ‘না’ ভোট পড়েছে ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৬৮১টি। এছাড়া বাতিল হয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৩২৫টি ভোট। এই ফলাফলের মধ্যে পোস্টাল ব্যালটের হিসাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আসনভিত্তিক ভোটের পরিসংখ্যান

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এত বিপুল পরিমাণ ভোট বাতিল হওয়া একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। অন্যদিকে, সাধারণ ভোটারদের মতে, ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ যেকোনো ভোট দেওয়ার অধিকার নাগরিকের রয়েছে। তবে জুলাই বিপ্লবের ক্ষত এখনো জনমনে দগদগে। যেখানে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল, সেখানে এত ‘না’ ভোট কোথা থেকে এল—তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
একজন সচেতন ভোটার মন্তব্য করেন, “না ভোটের পক্ষে পরোক্ষভাবে আওয়ামী লীগ থাকতে পারে। তারা নির্বাচনে না থাকলেও তাদের সমর্থকরা কি তবে নীরবে ভোটকেন্দ্রে এসে ‘না’ ভোট দিয়ে গেছে?” তবে সব বিতর্ক ছাপিয়ে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় সাধারণ মানুষ মনে করছেন, দেশ গঠন ও সংস্কারের মাধ্যমে একটি নতুন ভোরের সূচনা হবে।
উল্লেখ্য, যশোর জেলার ৮২৪টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিল ২৪ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১২ লাখ ৩২ হাজার ৯৭৭ জন, পুরুষ ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৯০৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ছিলেন ২৫ জন। জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, এবার জেলায় প্রায় ৭২ শতাংশ ভোট সংগৃহীত হয়েছে।