Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

আজ হিজরি নববর্ষ, পবিত্র মহররম শুরু

নজরুল ইসলাম নজরুল ইসলাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৭ জুন,২০২৬, ০৬:৩৪ এ এম
আজ হিজরি নববর্ষ, পবিত্র মহররম শুরু

ছবি: সংগৃহীত

মহাকালের পরিক্রমায় আমাদের মাঝে সমাগত হলো আরও একটি নতুন বছর, হিজরি নববর্ষ ১৪৪৮। পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখার মধ্য দিয়ে মুসলিম উম্মাহর দ্বারে উপস্থিত হয়েছে এই নতুন বছর। হিজরি নববর্ষ শুধু ক্যালেন্ডারের পাতা পরিবর্তনের দিন নয়, এটি মুসলিম উম্মাহর গৌরবময় ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং আত্মত্যাগের এক অনন্য স্মারক।

খ্রিস্টীয় ৬২২ অব্দে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর নির্দেশে দ্বীন ও ইসলামের হেফাজতের লক্ষ্যে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেছিলেন। ইসলামের ইতিহাসে এই হিজরতের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীতে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) তাঁর খেলাফতকালে হিজরি সনের প্রবর্তন করেন। মদিনায় হিজরতের মাধ্যমেই প্রথম একটি আদর্শ ইসলামি রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল, যেখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল শান্তি, সাম্য ও পরম সহিষ্ণুতা।

ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররম কেবল বছরের শুরুই নয়, বরং এটি ইসলামে ঘোষিত চারটি পবিত্র ও সম্মানিত মাসের অন্যতম। এই মাসের ফজিলত ও তাৎপর্য অনেক গভীর। বিশেষ করে মহররমের ১০ তারিখ তথা 'আশুরা'র দিনে মানব ইতিহাসের বহু ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে। ফেরাউনের জুলুম থেকে হযরত মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের মুক্তি এবং পরবর্তীতে কারবালার প্রান্তরে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ইমাম হোসেন (রা.)-এর সপরিবারে শাহাদাত বরণের মতো হৃদয়বিদারক ঘটনা এই মাসেই ঘটেছে। ফলে মহররম মাস আমাদের অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সত্য ও ন্যায়কে আঁকড়ে ধরার শিক্ষা দেয়।

হিজরি নববর্ষ উদযাপনে অন্য কোনো সংস্কৃতির মতো জাঁকজমকপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা বা উৎসবের বাধ্যবাধকতা নেই। একজন মুমিনের জন্য এই দিনটি মূলত আত্মোপলব্ধি ও আত্মশুদ্ধির। বিদায়ী বছরে আমরা কী অর্জন করলাম, আমাদের ভুলত্রুটিগুলো কী ছিল এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে আমরা কতটা সফল হতে পেরেছি— তা নিয়ে গভীরভাবে ভাবার দিন আজ। জীবনের ফেলে আসা দিনগুলোর ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন বছরে একজন ভালো মানুষ এবং প্রকৃত মুসলিম হিসেবে জীবন গড়ার প্রতিজ্ঞা করার মধ্যেই রয়েছে এই দিনের প্রকৃত সার্থকতা।


ইসলামি হিজরি ক্যালেন্ডার
ইসলামি ক্যালেন্ডার একটি চন্দ্র বর্ষপঞ্জি— অর্থাৎ, এটি চাঁদের আবর্তনের ওপর ভিত্তি করে হিসাব করা হয়। একে হিজরি ক্যালেন্ডারও বলা হয়, কারণ হিজরি সাল (যা খ্রিস্টীয় ৬২২ সাল থেকে শুরু) গণনা করা হয় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মক্কা থেকে মদিনায় ঐতিহাসিক হিজরত বা স্থানান্তরের বছর থেকে। হিজরি ১ম বছর মদিনায় প্রথম ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতীক, যা মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মূলত খলিফা উমর বিন আল-খাত্তাব (রা.) এই হিজরতের বছরটিকে প্রথম ইসলামি হিজরি সাল হিসেবে প্রবর্তন করেন।

ইসলামি নববর্ষের তাৎপর্য কী?
১ম মহররম বা হিজরি নববর্ষ উদযাপনের জন্য ইসলামে নির্দিষ্ট কোনো ইবাদতের নিয়ম বা বাধ্যবাধকতা নেই। তবে মুসলমানরা এই সময়টাকে আমাদের প্রিয় নবী (সা.) এবং তৎকালীন মুসলমানদের সংগ্রাম ও হিজরতের দীর্ঘ সফরের কথা স্মরণ বা অনুধাবন করার সুযোগ হিসেবে নিতে পারেন। প্রথম ইসলামি শাসনব্যবস্থা ও শহর প্রতিষ্ঠার পেছনে সে সময় অনেক ত্যাগ ও কষ্ট স্বীকার করতে হয়েছিল। বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোতে এটি বছরের শুরু এবং মানুষের বার্ষিক পরিকল্পনা সাজানোর একটি উপলক্ষ।

ইসলামি নববর্ষের ফজিলত ও গুরুত্ব
ইসলামি নববর্ষের সূচনা হলো আত্মোপলব্ধি, অতীতকে স্মরণ এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সময়। এর অন্যতম বড় ফজিলত হলো, এটি আমাদের গভীরভাবে নিজের জীবনকে মূল্যায়নের সুযোগ করে দেয়।

·         বিদায়ী হিজরি বছরে আমাদের নেওয়া সিদ্ধান্ত, আমাদের ভালো-মন্দ আমল, চরিত্রের পরিবর্তন এবং আল্লাহর হক আমরা কতটা আদায় করতে পেরেছি— তা নিয়ে ভাবার সময় এখনই।

·         আল্লাহর আরও কাছাকাছি হওয়ার জন্য এবং জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার ভিত্তি হিসেবে আমাদের এই সময়টাকে কাজে লাগানো উচিত।

·         সবচেয়ে বড় কাজ হলো নিজের ভালো ও মন্দ গুণগুলো চিহ্নিত করা এবং আমাদের আচরণ বা চরিত্রে এমন কোনো ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা, যা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে বাধা সৃষ্টি করছে।

·         এছাড়া, মহানবী (সা.) ও তাঁর পরিবার যে কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করে আমাদের কাছে ইসলাম পৌঁছে দিয়েছেন, তা স্মরণ করে একজন মুসলমান হিসেবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশেরও এটি বড় মাধ্যম। এই বিশেষ দিনে প্রিয় নবী (সা.)-এর প্রতি দুরুদ ও সালাম পাঠানো অন্যতম সেরা উপহার।

"নিশ্চয়ই আসমান ও জমিন সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনের মধ্যে বুদ্ধিমানদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আসমান ও জমিন সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করে (এবং বলে): 'হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি এগুলো বৃথা সৃষ্টি করোনি। তুমি পবিত্র! অতএব, আমাদের আগুনের আজাব থেকে রক্ষা করো।'" [আল-কুরআন | সূরা আলে ইমরান | ৩:১৯০-১৯১]

হিজরতে শরিফ কী?
খ্রিস্টীয় ৬২২ সালে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মক্কা থেকে মদিনায় স্থানান্তরিত হওয়াকে 'হিজরতে শরিফ' বলা হয়। ইসলাম রক্ষার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা হওয়ায় একে ইসলামি ক্যালেন্ডারের সূচনা ধরা হয়। মক্কায় কাফেরদের নির্মম নির্যাতন ও বিরোধিতা থেকে বাঁচতে মহানবী (সা.) মদিনায় হিজরত করেছিলেন। এই সফরে তাঁর সঙ্গী ছিলেন পরম প্রিয় হযরত আবু বকর (রা.)।

হিজরতের সময় মহানবী (সা.) তাঁর প্রিয় চাচাতো ভাই হযরত আলী (রা.)-কে মক্কায় নিজের বিছানায় রেখে যান, যাতে মক্কাবাসীর আমানত রাখা ধন-সম্পদগুলো (যারা তাঁর শত্রু ছিল) সঠিকভাবে তাদের কাছে ফেরত দেওয়া যায়। এটি তাঁর পরম বিশ্বস্ততার এক অনন্য প্রমাণ।

"আমি স্বপ্নে দেখলাম যে আমি মক্কা থেকে এমন এক ভূমিতে হিজরত করছি যেখানে খেজুর গাছ রয়েছে। আমি ভেবেছিলাম এটি আল-ইয়ামামাহ বা হাজার, কিন্তু দেখা গেল সেটি মদিনা (ইয়াসরিব)।" [হাদিস | বুখারী]

ইসলামে ১ম মহররমে কী ঘটেছিল?
মহররম মাসের প্রথম দিনটি ইসলামি চন্দ্র ক্যালেন্ডার তথা হিজরি ক্যালেন্ডারের প্রথম দিন। দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর খেলাফতকালে মহানবী (সা.)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখতে এই হিজরি সন (১ হিজরি) চালু করা হয়। হিজরতের এই ঘটনাটি ইসলামি ইতিহাসের একটি যুগান্তকারী মোড়। এটি শুধু মুসলমানদের নিরাপত্তাই নিশ্চিত করেনি, বরং মদিনায় ইসলামকে বিকশিত করার এবং প্রথম ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছিল।

১ম মহররমে আমাদের করণীয় কী?
ইসলামি চন্দ্র বর্ষের প্রথম মাস মহররমের প্রথম দিনটির গুরুত্ব মূলত নতুন বছরের সূচনা হিসেবেই। তবে এই দিনের জন্য ইসলামে নির্দিষ্ট কোনো ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা, আচার বা আনুষ্ঠানিকতা দেওয়া হয়নি।

মহান আল্লাহ আমাদের বিগত বছরের সব নেক আমল কবুল করুন। হিজরি নববর্ষের শুভেচ্ছা!

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)