Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

রমজানের শেষ দশক: কোন রাতে লাইলাতুল কদর?

আমিনুর ইসলাম আমিনুর ইসলাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১০ মার্চ,২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম
রমজানের শেষ দশক: কোন রাতে লাইলাতুল কদর?

বিত্র রমজানুল মুবারক বছরের শ্রেষ্ঠতম সময়। আর রমজানের সর্বাধিক ফজিলতপূর্ণ অংশ হলো এর শেষ ১০ দিন। কারণ, এই শেষ দশকের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে মহিমান্বিত রাত ‘লাইলাতুল কদর’ বা শবে কদর। বিশেষ হিকমতের কারণে শবে কদরের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি; তবে পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এর গুরুত্ব এবং অনুসন্ধানের পদ্ধতি স্পষ্ট করা হয়েছে।

লাইলাতুল কদরের মহিমা

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা এই রাতের মর্যাদা সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন:

‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। তুমি কি জানো, লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ (সুরা কদর, আয়াত: ১-৩)

অর্থাৎ এই এক রাতের ইবাদত হাজার মাস বা প্রায় ৮৩ বছর ৪ মাসের ইবাদতের চেয়েও বেশি সওয়াব বয়ে আনে।

কদর অনুসন্ধানে নবীজির (সা.) সুন্নাহ

আম্মাজান আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, ‘রমজানের শেষ দশ রাত শুরু হলে নবী কারিম (সা.) কোমর বেঁধে ইবাদতে নামতেন। তিনি নিজে রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং তাঁর পরিবারের সবাইকে জাগিয়ে দিতেন।’ (সহিহ বুখারি: ২০২৪)

লাইলাতুল কদর আসলে কবে?

হাদিস শরিফের নির্দেশনা অনুযায়ী, শবে কদর সুনির্দিষ্ট কোনো একটি রাতে সীমাবদ্ধ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

‘তোমরা শেষ দশকের বেজোড় রাতে শবে কদর তালাশ করো।’ (সহিহ বুখারি: ২০১৭)

অর্থাৎ রমজানের ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ তম দিবাগত রাতগুলোতে এই মহামূল্যবান রাতটি পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

উবাদা ইবনে সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) একবার লাইলাতুল কদরের সুনির্দিষ্ট তারিখ জানাতে ঘর থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যে দুইজন মুসলমানের ঝগড়া দেখে সেই জ্ঞান উঠিয়ে নেওয়া হয়। তবে নবীজি (সা.) আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, এটি উম্মতের জন্য কল্যাণকর হয়েছে যাতে মানুষ কেবল এক রাতে সীমাবদ্ধ না থেকে পুরো শেষ দশক ইবাদতে সচেষ্ট থাকে। তিনি বিশেষভাবে ২৫, ২৭ ও ২৯ তম রাতে এটি অনুসন্ধানের তাগিদ দিয়েছেন।

কেন এই গোপনীয়তা?

প্রখ্যাত হাদিসবিশারদ আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.)-এর মতে, এই রাতের তারিখ গোপন রাখার মূল হিকমত হলো— মানুষ যেন কেবল একটি রাতের ওপর নির্ভর না করে পুরো শেষ দশকজুড়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা ও সাধনা চালিয়ে যায়।

শবে কদরের বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ

১. হাজার মাসের চেয়ে উত্তম: এই রাতের ইবাদত দীর্ঘ জীবনব্যাপী ইবাদতের চেয়েও মূল্যবান।
২. গুনাহ মাফ: ঈমান ও সওয়াবের আশায় এই রাতে ইবাদত করলে অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।
৩. কুরআন নাজিল: মানবজাতির হেদায়েতের গ্রন্থ আল-কুরআন এই রাতেই লাওহে মাহফুজ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে।
৪. ফেরেশতাদের উপস্থিতি: জিবরাঈল (আ.)-সহ অসংখ্য ফেরেশতা এই রাতে পৃথিবীতে রহমত নিয়ে অবতরণ করেন।
৫. ভাগ্য ও রিযিক: এই রাতে আগামী এক বছরের জন্য মানুষের ভাগ্য বা রিযিকের ফয়সালাগুলো ফেরেশতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
৬. শান্তির বার্তা: সূর্যাস্ত থেকে ফজর পর্যন্ত এই রাতে পৃথিবীতে মহান আল্লাহর বিশেষ শান্তি ও রহমত বর্ষিত হয়।

মুমিনের করণীয়

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, একজন মুসলিমের উচিত নির্দিষ্ট কোনো একটি রাতকে (যেমন কেবল ২৭শে রাত) কদর হিসেবে নিশ্চিত মনে না করে শেষ দশকের প্রতিটি রাতেই ইবাদত করা। বিশেষত বেজোড় রাতগুলোতে নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার, তওবা-ইস্তেগফার এবং দান-সদকার মাধ্যমে কাটানো উচিত। এই সুযোগ বছরে মাত্র একবারই আসে, তাই অবহেলায় তা হাতছাড়া করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

লেখক: শিক্ষার্থী ও ধ্রুব নিউজের বিএলকলেজ প্রতিনিধি

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

সম্পর্কিত

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)