❒ মণিরামপুরে জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর দফায় দফায় হামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে অপরাধীদের আটকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক ছবি: ধ্রুব নিউজ
মণিরামপুরে কোনো কারণ ছাড়াই বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ওপর দুই দফা হামলা, ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক। শুক্রবার (১ মে) প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ও উপজেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ এই দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে বলা হয়, মণিরামপুর বাজারে সংসদ সদস্যের বাসভবনের নিচে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিল্লাল গাজী, সাইদুল ইসলাম ও এজাজুলের নেতৃত্বে মামুন, মাসুদ, সফিয়ারসহ ৩০-৪০ জন সন্ত্রাসী অতর্কিত হামলা চালায়। এতে জামায়াতের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। অভিযোগ করা হয়, মাটির নিলামের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপি নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়ালেও পরে পরিকল্পিতভাবে জামায়াতের ওপর চড়াও হয়। পরবর্তীতে বিএনপির মিছিল থেকে ফের হামলা চালিয়ে উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন, জেলা শুরা সদস্য মাওলানা মহিউল ইসলাম ও ইঞ্জিনিয়ার ফারুক হোসেনসহ ১৫-২০ জনকে জখম করা হয়।
সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক বলেন, "হামলার বিষয়টি তাৎক্ষণিক পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হলেও তারা ঢিলেঢালা মনোভাব দেখিয়েছে। এমনকি জামায়াতে ইসলামীর অফিসেও হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে।" তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি অনুরোধে জামায়াত তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেও রাত সাড়ে দশটার দিকে নেতাকর্মীরা বাড়ি ফেরার পথে মণিরামপুর হাসপাতালের সামনে আবারও হামলার শিকার হন। সেখানে নায়েবে আমির মাওলানা লিয়াকত আলীকে লক্ষ্য করে পিস্তল দিয়ে গুলি চালানো হয়। গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে আনাস নামে এক কর্মীর পায়ে বিদ্ধ হয়। এসময় লিয়াকত আলীকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম এবং আবু তালহা ও আব্দুল মুমিন নামে দুই কর্মীকে পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্য আগামী ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, এই ঘটনায় জড়িত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং ভাঙচুর করা কার্যালয়ের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অন্যথায় উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনকে দায় নিতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস, প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন, মণিরামপুর উপজেলা আমির অধ্যাপক ফজলুল হক, সেক্রেটারি অধ্যাপক খলিলুর রহমান, আবু সালেহ মো. ওবায়দুল্লাহ, আব্দুল্লাহ মোড়ল, গাজী মুকিতুল হক এবং অ্যাডভোকেট তাজউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।