Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

শান্তি আলোচনার জন্য নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : শুক্রবার, ১ মে,২০২৬, ০৯:১৭ পিএম
শান্তি আলোচনার জন্য নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান

মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনার জন্য একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। আজ শুক্রবার (১ মে) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চললেও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রস্তাবের খসড়াটি ইসলামাবাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অতর্কিত এবং ব্যাপক হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ ৮ এপ্রিল থেকে স্থগিত অবস্থায় রয়েছে। তবে এর মধ্যে পাকিস্তানের উদ্যোগে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যে মাত্র এক দফা সরাসরি আলোচনা হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।

ইতিমধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, যার ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে তেল, গ্যাস ও সারের একটি বিশাল অংশের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের এই অবরোধ কয়েক মাস ধরে চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলেছেন, যার ফলে তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

যুদ্ধ শেষ করার আলোচনা ব্যর্থ হলেও যুদ্ধবিরতি এখনো বজায় রয়েছে। শুক্রবার ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান এবং প্রভাবশালী আলেম গোলাম হোসেন মোহসেনি এজেয়ি বলেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান কখনোই আলোচনা থেকে পিছিয়ে আসেনি।

তবে বিচার বিভাগের ওয়েবসাইট 'মিজান অনলাইন'-এ শেয়ার করা একটি ভিডিওতে এজেয়ি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া মেনে নেব না।’ তার এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, সমঝোতায় পৌঁছানো বেশ কঠিন হতে পারে।

মোহসেনি এজেয়ি আরও বলেন, ‘তেহরান পুনরায় যুদ্ধে জড়াতে চায় না। আমরা কোনোভাবেই যুদ্ধকে স্বাগত জানাই না; আমরা যুদ্ধ চাই না এবং এর ধারাবাহিকতাও চাই না।’

এদিকে, যুদ্ধের ময়দানে লড়াই বন্ধ থাকলেও তা বিশ্ব বাজারকে শান্ত করতে পারেনি। হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন, ফলে তেলের দাম এখনো যুদ্ধপূর্ব সময়ের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, মুদ্রাস্ফীতি আকাশচুম্বী হওয়ার ভয়ে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ‘যুদ্ধ ক্ষমতা’ নিয়ে বিতর্ক

এদিকে ওয়াশিংটনে একটি আইনি বিতর্ক শুরু হয়েছে যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন চাওয়ার যে সময়সীমা ছিল, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা অতিক্রম করেছেন কি না। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, যুদ্ধবিরতি চলায় ৬০ দিনের সেই সময়সীমাটি সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। এই আইনের আওতায় প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের কাছ থেকে যুদ্ধের ক্ষমতার অনুমোদন নিতে হয়।

প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এএফপি-কে বলেন, ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশনের’ আওতায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের অবসান ঘটেছে।

সামনে কোনো স্পষ্ট বিজয় না থাকা, যুদ্ধের কারণে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি এবং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন—সব মিলিয়ে ট্রাম্প নিজ দেশেই চাপের মুখে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত মার্কিন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে ধীর এবং মুদ্রাস্ফীতি ৩.৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে, ইরানে কয়েক বছরের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ওপর যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব এখন স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে, তাদের অবরোধের কারণে ইরান ৬ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের তেল রপ্তানি করতে পারেনি। জাতীয় পরিসংখ্যান কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে মুদ্রাস্ফীতি ৪৫ শতাংশের উপরে থাকলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তা ৫৩.৭ শতাংশে পৌঁছেছে।

ইরানের বাইরে অবস্থানরত এএফপির একজন সাংবাদিককে ২৮ বছর বয়সী মাহইয়ার বলেন, ‘অনেকের জন্য বাড়ি ভাড়া দেওয়া এমনকি খাবার কেনাও কঠিন হয়ে পড়েছে, কারও কারও কাছে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।’ তিনি জানান, তার কোম্পানিতে কর্মরত কর্মীদের প্রায় ৪০ শতাংশ বা ৩৪ জনকে ছাঁটাই করা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি খোলা নিয়ে মিশন

হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রচেষ্টায় যোগ না দেওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার আন্তর্জাতিক মিত্রদের সমালোচনা করেছেন। ফ্রান্স ও ব্রিটেন ডজনখানেক দেশকে নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের চেষ্টা করছে যারা শান্তি নিশ্চিত হওয়ার পর প্রণালিটি খুলতে সহায়তা করবে।

তবে বৃহস্পতিবার এক মার্কিন কর্মকর্তা এএফপি-কে নিশ্চিত করেছেন যে, ওয়াশিংটন জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করতে ‘দ্য মেরিটাইম ফ্রিডম কনস্ট্রাক্ট’ নামে নিজস্ব একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠন করছে।

এর প্রতিক্রিয়ায় ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোট জোর দিয়ে বলেন, এই দুটি মিশন একে অপরের পরিপূরক হবে, প্রতিযোগী নয়। উপসাগরীয় অঞ্চল সফরের সময় বারোট বলেন, ‘মার্কিন মিশনটি আমাদের স্থাপিত মিশনের মতো নয়... এটি এক ধরণের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।’

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)