আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রাজস্থানের পৌরসভা নির্বাচনে বিজেপি-কংগ্রেসের প্রার্থীরা পেলেন মাত্র এক ভোট ছবি: সংগৃহীত
ভারতের রাজস্থানে সদ্য সমাপ্ত পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে তৈরি হয়েছে তুমুল চাঞ্চল্য। ফলাফলের তালিকা সামনে আসতেই দেখা গেছে বেশ কিছু অস্বাভাবিক ও নজিরবিহীন চিত্র—কোথাও দলীয় প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র একটি ভোট, আবার কোথাও পরিবারের ভোট থাকা সত্ত্বেও শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে প্রার্থীকে। ৩০৯টি পৌরসভা ও নগর স্থানীয় সংস্থার ১০ হাজারের বেশি কাউন্সিলর পদের এই নির্বাচনের ফল প্রকাশ পায় গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর)।
সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে দিদওয়ানা-কুচামান জেলার পারবতসর পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে। সেখানে ক্ষমতাসীন বিজেপির প্রার্থী কৈলাশচাঁদ পেয়েছেন মাত্র ১টি ভোট! অন্যদিকে, এই ওয়ার্ডে কংগ্রেসের প্রার্থী হিনা খানম ৩৭৬ ভোট পেয়ে বিপুল জয় অর্জন করেছেন এবং নির্দল প্রার্থী রশিদ খান পেয়েছেন ১৯৫ ভোট। নিজের এই করুণ হারের ব্যাখ্যায় কৈলাশচাঁদ জানান, দল তাকে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের টিকিট দিলেও তার নাম নিবন্ধিত ছিল পাশের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায়। ফলে তিনি নিজেকেও ভোট দিতে পারেননি। তার প্রাপ্ত ওই একক ভোটটি অচেনা কোনো সমর্থকের দেওয়া। অবশ্য এই পৌরসভায় ২৫টির মধ্যে ১৩টি ওয়ার্ডে জিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে কংগ্রেস, বাকি ১২টি গেছে বিজেপির দখলে।
একই ধরনের অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে নাগৌর জেলার রিয়ানবাড়ি পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডেও। সেখানে উল্টো চিত্র—কংগ্রেস প্রার্থী মাজিদ মোহাম্মদ পেয়েছেন মাত্র ১টি ভোট। ওয়ার্ডটিতে বিজেপির সুনীল কুমার চৌহান জয়ী হন এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকেন রাষ্ট্রীয় লোকতান্ত্রিক পার্টির (আরএলপি) গজেন্দ্র।
তবে সব জল্পনা-কল্পনাকে ছাড়িয়ে গেছে বালতোরার সিন্ধরি পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঘটনা। সেখানে আরএলপি প্রার্থী ওম প্রকাশ একটি ভোটও পাননি—বক্সে পড়েছে গোল্ডেন জিরো! অথচ এই ওয়ার্ডে ১৩৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন কংগ্রেসের ভানওয়ারা রাম এবং ৯৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন বিজেপির খেমা রাম।
ভোটের ফল দেখে হতবাক ওম প্রকাশ ইভিএমে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, তার নিজের পরিবারেই ১০ জন ভোটার রয়েছেন এবং তিনি নিজেও নিজেকে ভোট দিয়েছেন। পিটিআই-কে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এখানে প্রকাশ্যে ভোট চুরি হয়েছে। ইভিএম সিল করার সময় বিরোধী দলের এজেন্টদের বের করে দিয়ে শুধু কংগ্রেসের এজেন্টকে রাখা হয়েছিল।" এই কারচুপির বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানোর কথা বলেছেন তিনি।
ফলাফল প্রকাশের পর সামগ্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলো। তাদের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন বিজেপি দলীয় সুবিধা নিতে নির্বাচন পরিচালনা ও সরকারি প্রশাসনকে ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করেছে। তবে বিজেপির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।