আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাথরের বোল্ডার দ্বারা নির্মিত হয়েছে বাঁধটি ছবি: এক্স
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক উত্তাপ এবং ১৯৬০ সালের ঐতিহাসিক 'সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি' স্থগিত থাকার পটভূমিতে লাদাখে সিন্ধু নদের ওপর একটি পরিবেশবান্ধব বাঁধ নির্মাণ করেছে ভারত। লাদাখের লেহ জেলার উপসাই এলাকায় নির্মিত এই বাঁধটি নদীটির ওপর ভারতের প্রথম কোনো অবকাঠামোগত হস্তক্ষেপ। স্থানীয় পরিবেশ ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনা করে সম্পূর্ণ ভিন্ন পদ্ধতিতে নির্মিত এই প্রকল্পটিকে ঘিরে অঞ্চলে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেহের উপসাই এলাকায় অবস্থিত এই বাঁধ তৈরিতে প্রথাগত কোনো সিমেন্ট বা কংক্রিট ব্যবহার করা হয়নি। বরং পরিবেশের ভারসাম্য অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রাকৃতিক পাথরের বিশালাকার বোল্ডার বা চাঁই সারি করে সাজিয়ে এটি নির্মাণ করা হয়। অভিনব এই কাঠামোর কারণে সিন্ধু নদের ওই অংশে পানির উচ্চতা প্রায় ১০ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে প্রায় ৪ কোটি লিটার পানি সফলভাবে ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে। জমে থাকা এই পানি ইগু ফে খালসহ স্থানীয় ছোট-বড় খালের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে লেহের শুষ্ক ও অনাবাদি কৃষিজমিগুলোতে।
ভৌগোলিক কাঠামোর কারণে লাদাখের গভীর গিরিখাত দিয়ে প্রবাহিত সিন্ধু নদের পানি বহু নিচু স্তর দিয়ে বইত। ফলে শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য শক্তিশালী পাম্প ব্যবহার করেও নদী থেকে পানি তোলা সম্ভব হতো না। উপরন্তু, আন্তর্জাতিক চুক্তির বাধ্যবাধকতার কারণে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা থাকায় যুগের পর যুগ ধরে বিশাল কৃষিজমি অনাবাদি রাখতে বাধ্য হচ্ছিলেন স্থানীয় কৃষকেরা। নতুন বাঁধ চালুর ফলে নদীর তলদেশ থেকে পানির স্তর উঁচুতে উঠে আসায় এখন হাজার হাজার হেক্টর অনাবাদি জমিতে সহজেই সেচ দেয়া সম্ভব হচ্ছে, যা দীর্ঘদিনের পানিসংকট কাটিয়ে স্থানীয় কৃষিখাতে নতুন বিপ্লব ত্বরান্বিত করেছে।
উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৫ সালের পেহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার পর বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তিটি সাময়িকভাবে স্থগিত করে নয়াদিল্লি। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চুক্তিটি স্থগিত থাকা এবং দুই দেশের কূটনৈতিক অচলাবস্থার মাঝেই ভারত তার নিজস্ব সীমানায় এই বাঁধ নির্মাণের কাজটি সম্পন্ন করল। যদিও এটি পানি আটকে রাখার কোনো স্থায়ী কংক্রিট বাঁধ নয়, তবুও কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর সিন্ধু নদ নিয়ে ভারতের এই পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।