আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনার উদ্যোগের মাঝেই গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত প্রাণঘাতী হামলা প্রমাণ করে যে, যুদ্ধবিরতি বা শান্তিস্থাপনে বিন্দুমাত্র আগ্রহী নয় তেল আবিব। সোমবার (৩ আগস্ট) তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক কড়া বিবৃতিতে এই মন্তব্য করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে আঙ্কারার এই দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
তুর্কি পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই বিবৃতিতে সরাসরি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে। আঙ্কারা মনে করে, ফিলিস্তিনি নাগরিকদের তাদের নিজ মাতৃভূমি থেকে চিরতরে বিতাড়িত করাই নেতানিয়াহুর প্রধান উদ্দেশ্য। এর পাশাপাশি গোটা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার যেকোনো উদ্যোগকে তিনি সুপরিকল্পিতভাবে বাধাগ্রস্ত করছেন। বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, আঞ্চলিক রাজনীতিতে যে একটি নাজুক ভারসাম্য রয়েছে, নেতানিয়াহুর হঠকারী সিদ্ধান্তগুলো তা প্রতিনিয়ত ধ্বংস করছে। বিশেষ করে গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চলছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর বিতর্কিত পদক্ষেপগুলো তাকে সরাসরি ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে ন্যাটো জোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তুরস্ক আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে। নেতানিয়াহুর এই আগ্রাসী সামরিক নীতি ও বিস্তারবাদী আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে বিশ্বনেতাদের আরও কঠোর, সুস্পষ্ট এবং ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে আঙ্কারা। তুরস্ক সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েল শুধু ফিলিস্তিনেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না, বরং নিজেদের স্বার্থে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যকেই তারা একটি ভয়াবহ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার পাঁয়তারা করছে।
প্রসঙ্গত, গাজায় সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র একটি গুরুত্বপূর্ণ শান্তি পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করে। কিন্তু সেই ইতিবাচক উদ্যোগের রেশ কাটতে না কাটতেই গত রোববার ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলায় অন্তত ১৯ জন ফিলিস্তিনির মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটে। মূলত আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচেষ্টাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চালানো এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই তুরস্ক সরকারের পক্ষ থেকে এমন তীব্র ও সময়োপযোগী প্রতিক্রিয়া সামনে এলো।