Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

ভারতের দিকে তাক করা চীনের ১১টি স্টেলথ যুদ্ধবিমান, জবাব দিতে দিল্লির কতদিন লাগবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই,২০২৬, ০৪:৩৯ এ এম
ভারতের দিকে তাক করা চীনের ১১টি স্টেলথ যুদ্ধবিমান, জবাব দিতে দিল্লির কতদিন লাগবে

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সীমান্তসংলগ্ন দুটি বিমানঘাঁটিতে অন্তত ১১টি জে-২০ মাইটি ড্রাগন স্টেলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে চীন। নতুন স্যাটেলাইট ছবিতে এই তথ্য উঠে এসেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের বিরুদ্ধে উচ্চভূমির ঘাঁটি থেকে চীনের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান পরিচালনা এখন আর ব্যতিক্রম নয়, বরং নিয়মিত সামরিক কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে ভারতের নিজস্ব স্টেলথ যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা এখনো অন্তত এক দশক দূরে থাকায় এ ক্ষেত্রে দেশটি পিছিয়ে রয়েছে।

আমেরিকান স্পেস ইন্টেলিজেন্স কোম্পানি ভ্যান্টর থেকে পাওয়া স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, চলতি বছরের জুনের শেষ দিকে এবং জুলাইয়ের শুরুতে ভারতের দিকে মুখ করে থাকা দুটি চীনা বিমানঘাঁটিতে মোট ১১টি জে-২০ যুদ্ধবিমান মোতায়েন ছিল।

৯ জুলাই তোলা একটি ছবিতে দেখা যায়, চীনের জিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের হোতান বিমানঘাঁটিতে রানওয়ের পাশে সাতটি জে-২০ যুদ্ধবিমান অবস্থান করছে। দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য (বেসামরিক ও সামরিক) এই বিমানঘাঁটি লাদাখের লেহ্ থেকে প্রায় ৩৮৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং উত্তর লাদাখের ভারতীয় বিমানবাহিনীর দৌলত বেগ ওল্ডি ঘাঁটি থেকে মাত্র ২৪৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্রে কোনো চীনা বিমানঘাঁটিতে একসঙ্গে এত বেশি জে-২০ যুদ্ধবিমান আগে দেখা যায়নি।

আরেকটি ছবিতে তিব্বতের লাসা প্রশাসনিক অঞ্চলের ডামশুং বিমানঘাঁটির ফ্লাইটলাইনে চারটি জে-২০ যুদ্ধবিমান দেখা যায়। এই ঘাঁটি অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং থেকে প্রায় ৩৪৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে।

ভারতের মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা গবেষণাপ্রতিষ্ঠান নিউস্পেসের সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক যুদ্ধবিমানচালক সমীর যোশি বলেন, ‘হোতানে সাতটি এবং ডামশুংয়ে চারটি জে-২০ মোতায়েন থাকার অর্থ হলো, ভারতের দিকে মুখ করে থাকা উচ্চভূমির ঘাঁটি থেকে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান পরিচালনা এখন পিএলএএফের (পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্স) নিয়মিত কার্যক্রম, এটি আর শুধু শক্তি প্রদর্শন নয়।’

সমীর যোশি আরও বলেন, ‘ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য উত্তর সীমান্তে কম রাডারে ধরা পড়ে এমন (লো-অবজারভেবল) হুমকি এখন নতুন বাস্তবতা। ফলে স্টেলথবিরোধী সেন্সর, সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।’

জে-২০ যুদ্ধবিমানের সবচেয়ে বড় শক্তি এর স্টেলথ প্রযুক্তি। উন্নত নকশার কারণে রাডারে এর উপস্থিতি খুবই কম ধরা পড়ে। ফলে এটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আকাশসীমায় বেশি সুবিধা পায়। বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর ব্যবহৃত রাফালসহ বিদ্যমান যুদ্ধবিমানগুলো স্টেলথ প্রযুক্তির নয়।

ভারতের নিজস্ব প্রথম স্টেলথ যুদ্ধবিমান অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এএমসিএ) এখনো উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির সফল পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হলেও এটি স্কোয়াড্রনে যুক্ত হতে অন্তত আরও এক দশক সময় লাগবে।

এই পরিস্থিতিতে চীনের জে-২০ বহরের দ্রুত সম্প্রসারণও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দ্য ওয়ার জোন–এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে যেখানে চীনের জে-২০ যুদ্ধবিমান ছিল প্রায় ৫০টি, ২০২২ সালের শেষ নাগাদ তা বেড়ে প্রায় ২০০-তে পৌঁছায়। পরবর্তী বছরগুলোতে উৎপাদনের গতি দ্বিগুণ হয়।

২০২৫ সালের শেষ দিকে বছরে প্রায় ১২০টি জে-২০ উৎপাদন হচ্ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রের তথ্যে জানা গেছে। এর ফলে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি চীনের বিমানবাহিনীর এক ডজনের বেশি ইউনিটে মোট ৩০০ থেকে ৫০০টি জে-২০ যুদ্ধবিমান যুক্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের জে-২০ বহরের সংখ্যা হাজারে পৌঁছাতে পারে।

ভারতের বিমানবাহিনীর সাবেক উপপ্রধান এয়ার মার্শাল (অব.) নর্মদেশ্বর তিওয়ারি বলেন, ‘প্রতিবছর ১২৫টি যুদ্ধবিমান উৎপাদনের সক্ষমতা তাঁদের উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থারই প্রমাণ। তাঁরা প্রায় বাণিজ্যিক যাত্রীবিমানের মতো হারে যুদ্ধবিমান তৈরি করছে। এটি তখনই সম্ভব, যখন পুরো সরবরাহব্যবস্থা সমন্বিত থাকে, সব সরবরাহকারী অত্যন্ত নিখুঁত উৎপাদন মান বজায় রাখে এবং দক্ষ মানবসম্পদ পুরো প্রক্রিয়া সচল রাখে।’

গত বছরের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামে ৮৮ ঘণ্টার সংঘাতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিওয়ারি। তিনি বলেন, ‘তারা একটি জাতীয় রোডম্যাপ তৈরি করেছে, তা বাস্তবায়নে ক্ষমতাসম্পন্ন দল গঠন করেছে এবং ধারাবাহিকভাবে সমর্থন দিয়েছে। প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধের পরই তারা বিমানশক্তির গুরুত্ব বুঝে কাজ শুরু করে।’

এনডিটিভি তাদের প্রতিবেদনে বলছে, গত এক দশকে ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চীনা বিমানঘাঁটিগুলোতে জে-২০ যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি ধাপে ধাপে বেড়েছে। ২০১৬ সালে প্রথমবার তিব্বতের উচ্চভূমির দাওচেং ইয়াডিং বিমানবন্দরে একটি জে-২০ যুদ্ধবিমান দেখা যায়। পরে ২০২৪ সালের মে মাসে শিগাতসে বিমানঘাঁটিতেও জে-২০ অবতরণের খবর প্রকাশিত হয়। এই ঘাঁটিটি সিকিম সীমান্ত থেকে মাত্র ১৫০ কিলোমিটার উত্তরে।

বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর হাতে রয়েছে মাত্র ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান, যা হরিয়ানার আম্বালা ও পশ্চিমবঙ্গের হাসিমারা ঘাঁটির দুটি স্কোয়াড্রনে মোতায়েন রয়েছে। এ ছাড়া ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে নতুন ২৬টি রাফাল কেনা হচ্ছে। পাশাপাশি ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য আরও ১১৪টি রাফাল কেনার বিষয়ে দাসোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য এই চুক্তির মূল্য ৩৬ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে।

ভারতীয় বিমানবাহিনীর বহরে আরও রয়েছে ২৬০ টির বেশি রাশিয়ান নকশার সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান, যেগুলোর বড় ধরনের আধুনিকায়ন এখনো হয়নি। পাশাপাশি মিরাজ-২০০০ ও মিগ-২৯-এর মতো পুরোনো যুদ্ধবিমানও এখনো ব্যবহার করছে ভারত।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর কাছে পাঠানো প্রশ্নের কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)