ক্রীড়া ডেস্ক
সর্বোচ্চ নেতিবাচক অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন লিওনেল মেসি ছবি: সংগৃহীত
সদ্য সমাপ্ত ফিফা বিশ্বকাপের মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি নেট দুনিয়া ও সংবাদমাধ্যমেও চলেছে তুমুল আলোচনা। তবে এই উন্মাদনার আড়ালে ছড়িয়ে পড়েছে অসংখ্য ভুয়া খবর। তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান 'রিউমর স্ক্যানার'-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এক চিত্র। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এবারের ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে অনলাইনে ও মূলধারার গণমাধ্যমে মোট ১১৩টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বা ভুয়া খবর প্রচারিত হয়েছে।
গুজব ছড়ানোর এই প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রচারণার শিকার হয়েছে আসরের রানার্সআপ দল আর্জেন্টিনা। ল্যাটিন আমেরিকার এই পরাশক্তিকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ ৫২টি মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যার ৬৫ শতাংশই ছিল দলটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে। অন্যদিকে, মাঠের খেলায় শিরোপা জেতা স্পেন ভুয়া খবরের পরিসংখ্যানে রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। তবে স্প্যানিশদের নিয়ে ছড়ানো ২০টি গুজবের ৮০ শতাংশই ছিল তাদের পক্ষে বা ইতিবাচক। এছাড়াও, ব্রাজিলকে নিয়ে ১৬টি, মিশরকে নিয়ে ১৪টি এবং পর্তুগালকে ঘিরে ৭টি ভুয়া খবর ছড়িয়েছে। পর্তুগালকে নিয়ে প্রচারিত এসব তথ্যের ৮৬ শতাংশই ছিল তাদের জন্য সম্মানজনক।
দলীয় পরিসংখ্যানের মতো ব্যক্তিগত খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও অপপ্রচারের প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। এই কিংবদন্তিকে নিয়ে মোট ২২টি ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যার ৬৪ শতাংশই ছিল তার বিপক্ষে। এর ঠিক উল্টো চিত্র দেখা গেছে স্পেনের তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামালের ক্ষেত্রে। তাকে নিয়ে ছড়ানো ১১টি গুজবের ৮২ শতাংশই তার বন্দনায় তৈরি। পিছিয়ে ছিলেন না পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও; তাকে নিয়ে ছড়ানো ৬টি মিথ্যা খবরের ৬৭ শতাংশই তাকে ইতিবাচক ভূমিকায় তুলে ধরেছে।
সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো, কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই নয়, স্বীকৃত এবং মূলধারার অনেক গণমাধ্যমও কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া এসব ভুয়া খবর প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে লিওনেল মেসি এবং আর্জেন্টিনা দলকে নিয়ে নেতিবাচক ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে ন্যূনতম বস্তুনিষ্ঠতা বা বিবেচনাবোধের অভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে, যা আধুনিক ক্রীড়া সাংবাদিকতার জন্য এক বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন।