আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে গত জুন মাসে আমেরিকা-ইরানের মধ্যে ১৪ দফার অন্তর্বর্তীকালীন "ইসলামাবাদ চুক্তি" স্বাক্ষরিত হয়েছিল ছবি: রয়টার্স
চলমান সামরিক উত্তেজনার মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর আওতাধীন সমস্ত প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। শনিবার তেহরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছিল, ইরান আর তার কোনো শর্তই মেনে চলবে না। উল্লেখ্য, টানা কয়েক সপ্তাহের সংঘাতের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে গত জুন মাসে দুই দেশের মধ্যে ১৪ দফার এই অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। যার অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল— হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া এবং ধাপে ধাপে সামরিক উত্তেজনা প্রশমিত করা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এই সমঝোতার শর্তাবলি চরমভাবে লঙ্ঘন করেছে এবং নিজেদের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে। এরই পাল্টা জবাব হিসেবে তেহরান চুক্তি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে। উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘারিবাবাদি স্পষ্ট জানান, মার্কিন পদক্ষেপের উপযুক্ত জবাব দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মাতৃভূমি রক্ষাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, তাই চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নের আর কোনো সুযোগ নেই। এর আগেও একাধিকবার মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছিল ইরান এবং তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকলে এই সমঝোতা কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়বে।
এদিকে, দুই দেশের মধ্যকার এই রেষারেষি এখন আরও ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী আকার ধারণ করেছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, গত ৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া মার্কিন বাহিনীর নতুন দফার হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হয়েছেন পাঁচ শতাধিক মানুষ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, যেসব দেশ মার্কিন সেনাদের আশ্রয় বা ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও পাল্টা হামলার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সর্বশেষ গত শুক্রবার রাতের এক মার্কিন হামলায় ইরানের একটি পানি শোধনাগার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে প্রায় ১০ হাজার মানুষের নিরাপদ পানীয় জলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
ইরান-মার্কিন এই দ্বন্দ্বের আঁচ গিয়ে লেগেছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে, ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংঘাতের জেরে বাহরাইনে ইতিমধ্যেই একাধিকবার বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে। অন্যদিকে, কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমার দিকে ধেয়ে আসা বেশ কিছু মিসাইল ও ড্রোন তারা সফলভাবে আকাশেই ধ্বংস করেছে। সব মিলিয়ে গোটা অঞ্চলে এখন এক থমথমে ও যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি বিরাজ করছে।