ধ্রুব ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
চারিদিকে বাঁশি আর ভুভুজেলার ধ্বনি, ক্ষণে ক্ষণে আতশবাজি; স্লোগানে, চিৎকারে আর হর্ষধ্বনিতে মুখরিত রাজপথ থেকে ওলিগলি। মিছিল, শোডাউনের ডামাডোলে ফুটবল প্রেমীরা বাঁধনহারা উৎসবে আত্মহারা। রোববার রাতে বড় পর্দায় ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ দেখতে ভক্তদের বাঁধভাঙা উপস্থিতিতে সারা দেশের মতো যশোরও তৈরি হয়েছে এক অভূতপূর্ব উন্মাদনা। সব জায়গাই যেন রূপ নিয়েছিল ফুটবল উৎসবে।
ফুটবলের এই মহোৎসবের ঢেউ আছড়ে পড়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত জেলা শহর যশোরে। রোববার সন্ধ্যা নামার আগেই যশোর শহরের দড়াটানা মোড়, ঐতিহ্যবাহী টাউন হল মাঠ, পালবাড়ি মোড়, বকচর, আর এন রোড এবং চাঁচড়া মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে প্রজেক্টরের মাধ্যমে বড় পর্দায় ফাইনাল ম্যাচ দেখার প্রীতি উৎসবের আয়োজন করা হয়। খেলা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল ও পিকআপ ভ্যানে করে বিশাল বিশাল পতাকা নিয়ে শোডাউন দিতে থাকেন সমর্থকরা। শহরের টাউন হল মাঠে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। ভুভুজেলার তীব্র শব্দ আর প্রিয় দলের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা যশোর শহর। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের জার্সি গায়ে শিশু থেকে শুরু করে মধ্যবয়স্ক মানুষও শামিল হন এই আনন্দযজ্ঞে। শুধু শহরই নয়, শার্শা, বেনাপোল, ঝিকরগাছা, মণিরামপুর ও কেশবপুরসহ যশোরের প্রতিটি উপজেলার গ্রামীণ হাটবাজারের ছিল খেলা দেখার জন্য ভিড়।
একই চিত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের মাঠ, হলপাড়া, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল এবং জগন্নাথ হলের মাঠে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বড় স্ক্রিনে খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করেছে ছাত্রদল। এ ছাড়া ভিসি চত্বরে ডাকসুর উদ্যোগে একটি বিশেষ পর্দা লাগানো হয়েছে। বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করতে বিকেল থেকেই ক্যাম্পাসে জড়ো হতে থাকেন হাজারো সমর্থক। নিরাপত্তা দেয়াল ভেঙে পুরো ক্যাম্পাস শেষ পর্যন্ত লোকারণ্য হয়ে পড়ে।
রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান নিয়ে আর্জেন্টিনার বড় আকারের একটি পতাকা উড়িয়ে দলটির পক্ষে নানা স্লোগান দিতে থাকেন ভক্তরা। ভুভুজেলার শব্দে তাঁরা কাঁপিয়ে তোলেন পুরো টিএসসি এলাকা। সময়ের সাথে সাথে একদল ভক্ত বিভিন্ন স্থানে আতশবাজি ফোটান। ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ উপভোগ করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সেখানে ভিড় করেন। কেউ এসেছেন সপরিবার, কেউ বন্ধুদের নিয়ে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাকিব হাসান বলেন, "বড় পর্দায় হাজারো মানুষের সঙ্গে বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখা একেবারেই ভিন্ন অভিজ্ঞতা। খেলার প্রতিটি মুহূর্তে পুরো ক্যাম্পাস যেন একসঙ্গে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ছিল।" খেলা দেখতে আসা নওরীণ ইসলাম বলেন, "অনেকদিন পর এমন সুযোগ আসে। আমার প্রিয় দল আর্জেন্টিনা ফাইনালে। লিওনেল মেসির জাদুতে আমরা জিতব।" প্রাক্তন শিক্ষার্থী আরিফুল কবির বলেন, "বিশ্বকাপের উন্মাদনা ক্যাম্পাসে ভিন্নরকম। বড় পর্দায় এত মানুষের একসঙ্গে খেলা দেখার আনন্দ অন্যরকম।"