আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিশ্বের সর্ববৃহৎ সামরিক সদর দপ্তর ‘দ্য অক্টাগন’ ছবি: সংগৃহীত
সামরিক অবকাঠামোর ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করল মিশর। দেশটির নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ সামরিক সদর দপ্তর ‘দ্য অক্টাগন’। আয়তন ও আধুনিকতার দিক থেকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর ‘পেন্টাগন’-কেও ছাড়িয়ে গেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রায় ২২ হাজার একর (৮৯ বর্গকিলোমিটার) বিশাল এলাকাজুড়ে নির্মিত হয়েছে এই অত্যাধুনিক সামরিক কমপ্লেক্স। এর মোট ফ্লোর এরিয়া প্রায় ৫০.৫ মিলিয়ন বর্গফুট (৪.৭ মিলিয়ন বর্গমিটার)। আট কোণবিশিষ্ট বিশেষ স্থাপত্য শৈলীর কারণে এই সদর দপ্তরের নামকরণ করা হয়েছে ‘অক্টাগন’।
বিশাল এই সামরিক হেডকোয়ার্টারে রয়েছে ১০টি প্রধান ভবন এবং ১৩টি পৃথক জোন। এখান থেকেই মিশরের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান শাখাগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে: স্থলবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী।

মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি দ্য অক্টাগন উব্দোধন অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ সামরিক পোশাকে উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন/ ছবি: সংগৃহীত
মিশরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও একীভূত করতে ‘অক্টাগন’-এ যুক্ত করা হয়েছে বিশ্বমানের প্রযুক্তি। কমপ্লেক্সটির মূল সক্ষমতাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
কেবল সামরিক ব্যবস্থাপনাই নয়, এই কমপ্লেক্সটি আবাসন ও সেবার দিক থেকেও পুরোপুরি স্বয়ংসম্পূর্ণ। এর ভেতরেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রশাসনিক ভবন, হাসপাতাল, উন্নত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং আবাসিক এলাকা। তবে কৌশলগত নিরাপত্তার কারণে এই বিশাল দপ্তরে একসঙ্গে ঠিক কতজন সামরিক কর্মকর্তা ও সদস্য অবস্থান করতে পারবেন, সেই তথ্য প্রকাশ করেনি মিশর সরকার।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আধুনিক কমান্ড সেন্টারের মাধ্যমে মিশর তাদের সামরিক সক্ষমতা এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে গেল।