আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
রাতভর রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কেঁপে উঠলো ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ। টানা ১১ ঘণ্টার হামলায় নিহত হয়েছেন ২৭ জন। আহত অন্তত ৯০ জন। চলমান যুদ্ধে রাজধানীতে এটিই সবচেয়ে বড় হামলা বলে দাবি ইউক্রেনের। আর মস্কো বলছে, রুশ তেল স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলার জবাবেই চালানো হয়েছে এই আক্রমণ।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতভর কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৫০০টি ড্রোন এবং ৭০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে রাশিয়া। টানা ১১ ঘণ্টার হামলা বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। আহত হন বহু মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অনেক ভবন। আবাসিক ভবন ধসে পড়ায় ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে দিনভর অভিযান চালিয়েছে জরুরি সেবা বিভাগ।
বিমান হামলার সতর্কতায় রাতভর মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন হাজারো মানুষ। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে রাজধানীতে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা বলে জানিয়েছেন শহরের মেয়র।
ক্রেমলিনের দাবি, এসব হামলা শুধু সামরিক বা সামরিক সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতেই চালানো হয়েছে। মস্কোর দাবি, রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলার জবাব হিসেবেই কিয়েভে এই ব্যাপক আক্রমণ চালানো হয়েছে। তবে রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে আনতেই কৌশলগত জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা জোরদারের কথা জানিয়েছিল ইউক্রেন।
হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ভবন পরিদর্শন করেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এসময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত সরবরাহের আহ্বান জানান। অস্ত্র সহায়তা পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেন জেলেনস্কি।
তিনি বলে, ‘আমরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার দলের কাছে দ্রুত সহায়তার আবেদন জানাচ্ছি। অস্ত্র সরবরাহে দেরির মূল্য দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তারা শুধু তাদের ঘরবাড়ি হারাচ্ছেন না, হারাচ্ছেন পরিবার, সন্তান, এমনকি নিজের জীবনও।’
এদিকে, যুদ্ধে হতাহত নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ- সিএসআইএস। তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুই পক্ষের মোট হতাহতের সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে রাশিয়ার হতাহতের সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ এবং ইউক্রেনের ৬ লাখের বেশি।
গবেষণাটি আরও বলছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত প্রতি একজন ইউক্রেনীয় সেনার বিপরীতে প্রায় আটজন রুশ সেনা হতাহত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘায়িত এই যুদ্ধ ইউরোপের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।