আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ রাশিয়ার সেভাস্তোপল ছবি: এপি
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাত সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি আলোচনার স্থবিরতার মাঝেই দুই দেশ একে অপরের ওপর পাল্টা হামলা জোরদার করেছে, যার প্রভাব পড়ছে জনজীবনে।
ইউক্রেনের আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেগ সাইনেগুবভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, খারকিভ অঞ্চলের বালাক্লিয়া শহরে রাতে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ৫৬ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় ২১ বছর বয়সী আরও এক নারী আহত হয়েছেন এবং একাধিক ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা এই সংঘাতে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে প্রায় প্রতিদিনই এমন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া।
এই হামলার পর ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণে রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর সেভাস্তোপল পুরোপুরি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ২০১৪ সালে ইউক্রেনের কাছ থেকে রাশিয়া এই অঞ্চলটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল।
সেভাস্তোপলের গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ টেলিগ্রামে জানান, ইউক্রেনের এই হামলায় পুরো শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনি বাসিন্দাদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ফোন ব্যবহার না করতে এবং ব্যাটারি সাশ্রয় করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন তাদের আক্রমণের কৌশল বদলেছে। তারা মূলত রাশিয়ার তেল ডিপো ও তেল শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। ইউক্রেনের দাবি, এই জ্বালানি খাত থেকেই রাশিয়া তাদের যুদ্ধ তহবিলের অর্থ সংস্থান করছে।
শান্তি আলোচনা দ্রুত আলোর মুখ না দেখলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।