আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রোদবৃষ্টিতে আড়াই দিন ধরে শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে ওরা ১০ জন ছবি: সংগৃহীত
জ্যৈষ্ঠের প্রচণ্ড রোদ আর ভ্যাপসা গরম। শূন্যরেখার ফসলি জমির সরু আইলে কেউ বসে আছেন, কেউ দাঁড়িয়ে। আইলে জমেছে বৃষ্টির পানি। রাইফেল হাতে এক পাশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি); অপর পাশে দাঁড়িয়ে আছেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা। পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্তে বিএসএফের ‘পুশ ইন’ চেষ্টার শিকার নারী-শিশুসহ ১০ জন এভাবেই তিন দিন ধরে শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
আজ রোববার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। গত শুক্রবার ভোর পাঁচটা থেকে আজ বিকেল চারটা পর্যন্ত কোনো দেশই তাঁদের সীমান্তে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় তাঁরা শূন্যরেখার খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। পুশ ইনের চেষ্টার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন পাঁচজন পুরুষ, দুজন নারী ও তিন শিশু।
গত শুক্রবার ভোরে সীমান্ত দিয়ে ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। কিন্তু কঠোর নজরদারির কারণে তাঁরা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি বলে জানিয়েছে বিজিবি। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে বজ্রবৃষ্টির সময়ও তাঁরা বৃষ্টিতে ভিজেই সেখানে অবস্থান করছিলেন বলে বিজিবি ও স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় গতকাল শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্তে বাংলাদেশের ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ও ভারতের ৯৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার পর্যায়ে, তার আগে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিজিবির বড়বাড়ি বিওপি ও বিএসএফের সাকাতি ক্যাম্পের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু দুই দফার পতাকা বৈঠকেও কোনো সমাধান আসেনি।
শূন্যরেখায় অবস্থান করা ১০ জনকে দেখতে বাংলাদেশ সীমান্তে লোকজন ভিড় করছেন। তবে রোদবৃষ্টির মধ্যে বসিয়ে রাখা নারী-শিশুসহ ১০ জনের কষ্ট দেখে দুই দেশের সরকারের কাছে এ ঘটনার দ্রুত সমাধান দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বড়বাড়ি এলাকার বাসিন্দা মো. জহিরুল হক বলেন, ‘তিন দিন ধরে ছোট বাচ্চাসহ মানুষগুলোর এমন কষ্ট দেখে খুব খারাপ লাগছে। এই রোদ আর গরমের মধ্যে আমাদের ছায়াতে থাকতে কষ্ট হচ্ছে। তাহলে পানি জমে থাকা আইলের মধ্যে ওরা কীভাবে আছে?’
দক্ষিণ প্রধানপাড়া এলাকার বাসিন্দা রহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ওখানে থাকা বাচ্চাদের দেখে কান্না আসতেছে। এভাবে পানির ওপর রোদের নিচে মানুষ কতক্ষণ থাকতে পারে? ওদের খাবার নাই, প্রস্রাব-পায়খানার ব্যবস্থা নাই। আমরা চাই দুই দেশের সরকার আলোচনা করে দ্রুত এই ঘটনার সমাধান করুক। তা না হলে এভাবে তাদের ওখানে মারা যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হবে।’
যোগাযোগ করলে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম রোববার বিকেলে বলেন, ‘আমি আজও ভারতের ৯৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ডারকে তাদের (পুশ ইন চেষ্টার শিকার) ফিরিয়ে নিতে বলেছি। কিন্তু তারা (বিএসএফ) অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আমরাও এভাবে তাদের একসেপ্ট করব না—সে বিষয়ে অনড় আছি। সেই সঙ্গে বিষয়টি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। সেখান থেকে যে নির্দেশনা পাব, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’