Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

কঙ্গোতে ইবোলায় মৃত্যু বেড়ে ১০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : সোমবার, ১৮ মে,২০২৬, ১০:৫০ পিএম
কঙ্গোতে ইবোলায় মৃত্যু বেড়ে ১০০

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ছবি: ধ্রুব নিউজ

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। দেশটিতে এই মারাত্মক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১০০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া এ পর্যন্ত ৩৯০ জনেরও বেশি মানুষ ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

আফ্রিকা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (আফ্রিকা সিডিসি) প্রধান ড. জিন কাসেয়ার বরাত দিয়ে আজ সোমবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) অলরেডি এই প্রাদুর্ভাবকে ‘বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে।

কঙ্গোর এই ইবোলা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে অন্তত ৬ জন মার্কিন নাগরিক ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, এই ৬ জনের মধ্যে একজন মার্কিন নাগরিকের শরীরে ইতিমধ্যে ইবোলার উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া অন্য তিনজনকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সংস্পর্শ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে তাঁরা নিশ্চিতভাবে ভাইরাসে আক্রান্ত কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

পরিস্থিতি বিবেচনায় মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (ইউএস সিডিসি) কঙ্গো থেকে আক্রান্ত বা ঝুঁকিতে থাকা এই অল্পসংখ্যক মার্কিন নাগরিককে নিরাপদে প্রত্যাহারের কাজ শুরু করেছে। স্বাস্থ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম স্ট্যাট জানিয়েছে, মার্কিন সরকার এই নাগরিকদের জার্মানির একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রাখার পরিকল্পনা করছে।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে মার্কিন সরকার তাদের নাগরিকদের জন্য কঙ্গো ভ্রমণে ‘লেভেল ফোর’ বা চতুর্থ স্তরের ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি জারি করেছে এবং দেশটিতে ভ্রমণ না করার নির্দেশ দিয়েছে।

কঙ্গোর সীমানা পেরিয়ে এই ভাইরাস প্রতিবেশী উগান্ডাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। উগান্ডায় এ পর্যন্ত ২ জন রোগী (ল্যাব-নিশ্চিত) শনাক্ত হয়েছেন এবং ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। কঙ্গোর বর্তমান এই ইবোলা প্রাদুর্ভাবটি মূলত ‘বুন্দিবুগিও’ নামক একটি বিরল ভাইরাসের কারণে হচ্ছে, যার বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো কোনো অনুমোদিত প্রতিষেধক, টিকা বা নির্দিষ্ট ওষুধ নেই।

কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে এর প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি হলেও এটি যেকোনো সময় আরও বড় এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঙ্গোর প্রতিবেশী দেশ রুয়ান্ডা তাদের সীমান্তে স্ক্রিনিং ও নজরদারি জোরদার করেছে। এ ছাড়া নাইজেরিয়া সরকারও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে।

আফ্রিকা সিডিসির মহাপরিচালক ড. জিন কাসেয়া বিবিসিকে বলেন, যেহেতু ‘বুন্দিবুগিও’ নামক বিরল ভাইরাসটির কোনো ভ্যাকসিন বা ওষুধ নেই, তাই সাধারণ মানুষকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক গাইডলাইন ও নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। বিশেষত ইবোলায় মৃত ব্যক্তিদের শেষকৃত্য বা জানাজা-দাফনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা চাই না শেষকৃত্য বা দাফন প্রক্রিয়ার কারণে নতুন করে কোনো মানুষ সংক্রমিত হোক। এক দশক আগের সেই ভয়াবহ মহামারির শুরুর দিকে প্রিয়জনের মরদেহ ধোয়া এবং শেষকৃত্যের সামাজিক প্রথার কারণেই হাজার হাজার মানুষ ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।’

২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকায় (গিনি, সিয়েরা লিওন, লাইবেরিয়া ইত্যাদি) ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা মহামারি আঘাত হেনেছিল। সে সময় ২৮ হাজার ৬০০-এরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং ১১ হাজার ৩২৫ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেই প্রাদুর্ভাব যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইতালিতেও ছড়িয়ে পড়েছিল। কঙ্গোর বর্তমান পরিস্থিতি যাতে সেই পুরোনো ভয়াবহতার পুনরাবৃত্তি না ঘটায়, সে জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কঙ্গো ও উগান্ডাকে সীমান্ত পারাপারে কড়া স্ক্রিনিং এবং প্রতিবেশীদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)