আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ করার চেষ্টা ব্যর্থ, আইআরজিসির পাহারায় বন্দরে পৌঁছাল ইরানি জাহাজ ছবি: সংগৃহীত
ওমান সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ করার চেষ্টা ব্যর্থ করে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে বন্দরে পৌঁছেছে একটি ইরানের পণ্যবাহী জাহাজ। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ জানিয়েছে, চালবাহী জাহাজটিকে পাহারা দিয়ে নিয়ে আসে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ-ইউনিট। মূলত মার্কিন বাহিনীর কব্জা থেকে জাহাজটিকে রক্ষা করতেই এই বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।
তেহরানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে ইরান
ইরানের রাজধানী তেহরানের আকাশে ‘শত্রু লক্ষ্যবস্তু’ শনাক্ত হওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার শহরের বিভিন্ন অংশে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আকাশে সন্দেহভাজন কিছু লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি জানায়, রাজধানীর আকাশে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে কাজ শুরু করে। পাশাপাশি নূর নিউজও নিশ্চিত করেছে যে, শহরের বেশ কয়েকটি স্থানে প্রতিরক্ষা ব্যাটারিগুলো সক্রিয় করা হয়েছে। তবে এ হুমকির ধরন সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই তেহরানে এ ঘটনা ঘটল।
ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ
ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে দেশটিকে ধ্বংস করে দেওয়ার মতো ভয়ানক হামলার হুমকি দিলেও এখন সেই অবস্থান থেকে সরে এলেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, কোনো অবস্থাতেই পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘পরমাণু অস্ত্র যাতে কেউ কোনোভাবে ব্যবহার করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।’
এর আগে ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানি সভ্যতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হবে। তবে তাঁর নতুন মন্তব্য সেই আগের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বব্যাপী মজুত অস্ত্রভাণ্ডারের বড় অংশ শেষ: নিউইয়র্ক টাইমস
ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বব্যাপী মজুত থাকা সামরিক সরঞ্জামের একটি বড় অংশ শেষ হয়ে গেছে। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন এশিয়া ও ইউরোপীয় কমান্ড থেকে সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যদিও হোয়াইট হাউস এ পর্যন্ত যুদ্ধের সঠিক ব্যয় নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক হিসাব দেয়নি, তবে দুটি স্বতন্ত্র সংস্থা জানিয়েছে যে, ইরান যুদ্ধের পেছনে প্রতিদিন ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ মোট ব্যয়ের পরিমাণ ২৮ বিলিয়ন (২ হাজার ৮০০ কোটি) থেকে ৩৫ বিলিয়ন (৩ হাজার ৫০০ কোটি) ডলার।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের যে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রগুলোর মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে, তার মধ্যে রয়েছে প্রিসিশন-স্ট্রাইক মিসাইল (নির্ভুল নিশানায় আঘাতকারী ক্ষেপণাস্ত্র), এটিএসিএমএস ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইল।