আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রাজ্যে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটদানের হার দেখা গেছে, ৯১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। ছবি: সংগৃহীত
রাজ্যে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটদানের হার দেখা গেছে, ৯১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এবার ভোটার তালিকায় অনেক নাম বাদ যাওয়ায়
কেউ ঝুঁকি নেননি- বলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর) নিয়ে বিতর্কের পর প্রথম বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোটে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রেকর্ড সংখ্যক ভোট পড়েছে।
বিকাল ৫টা পর্যন্ত প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট পড়ে। এই প্রচুর ভোট পড়াকে ‘ভালো লক্ষণ’ বলে অভিহিত করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার চৌরঙ্গীর একটি প্রচারসভা থেকে মতা বলেন, “আপনারা শুনলে খুশি হবেন, এ বার প্রচুর ভোট পড়েছে। আসলে এত নাম এবার বাদ গিয়েছিল। তাই এবার কেউ ঝুঁকি নেননি। সবাই ভোট দিয়েছেন। এটা ভাল লক্ষণ। সবাই এসআইআর নিয়ে ভয়ে ছিলেন।’’
তিনি আরও বলেন, “এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকায় লাখ লাখ ভোটার বাদ পড়ার এরও রেকর্ড সংখ্যক ভোট কেন পড়ছে জানেন? আমার মনে হয়, মানুষ ভেবেছে এটি তাদের অধিকার রক্ষার লড়াই।”
রাজনৈতিকভাবে এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রভাব যে ভোটে পড়বে তা একরকম জানাই ছিল। যদিও ভোটের শতাংশে হেরফের হবে কি না তা নিয়ে জল্পনা ছিল।
তবে বৃহস্পতিবার ভোট শুরু হতেই দেখা যায়, সকাল ১১টার মধ্যেই একাধিক কেন্দ্রে ৩০ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পড়ে। বেলা বাড়লে ভোটের শতাংশ বাড়তে থাকে।
রাজ্যে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৫২টি কেন্দ্রে ভোটদানের হার দেখা গেছে, ৯১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে ভোটদানের হার হালনাগাদ করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ফলে, শেষ পর্যন্ত ভোট শতাংশের হার আরও সামান্য কিছুটা বাড়তে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন, “মানুষ জানে, তৃণমূলকে ভোট না দিলে আমও যাবে, ছালাও যাবে, অধিকার যাবে, সম্পত্তি যাবে, ব্যবসা যাবে। বিজেপি’র এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে মানুষ ভোট দেবে।”
কয়েকটি বিক্ষিপ্ত বিশৃঙ্খলার ঘটনা ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ মূলত শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। মুর্শিদাবাদে ভোট গ্রহণের দিন সকাল থেকেই হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে।
এই অস্থিতিশীলতার দায় তৃণমূল কংগ্রেসের উপর চপিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরুর পর সিআরপিএফ ও পুলিশ মাঠে নেমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হুমায়ুন কবীর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন। মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের আদলে একটি মসজিদ গড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এরপর তিনি নিজের দল গড়েছিলেন। আসাদুদ্দিন ওয়াইসির দলের সঙ্গে এই ভোটের জন্য জোট গড়েছিলেন কবীর। তবে গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা স্টিং অপারেশনের ভিডিও সামনে আসার পরে তার সঙ্গে নির্বাচনী জোট ভেঙে দেন ওয়াইসি।
নির্বাচনের দিন সকাল থেকে একাধিক জায়গায় নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা-অস্থিরতার অভিযোগ করেছে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস উভয় দলই।
ভোটের শেষ মুহূর্তে উত্তপ্ত হয় নন্দীগ্রাম। জেলেমারার ৩৭ নং বুথে ভেকুটিয়া ১ অঞ্চলের তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি রাখহরি ঘড়াকে ব্যাপক মারধরের অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে।
তাছাড়া, সাঁইথিয়া বিধানসভার অন্তর্গত সিউড়ি ২ ব্লকের বনশঙ্কা পঞ্চায়েতের বাতশঙ্কা গ্রামে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
তৃণমূল কংগ্রেস একাধিক অভিযোগ করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ভোটারদের হেনস্তা করার অভিযোগ করেছে তৃণমূল। তবে এসব অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী বা নির্বাচন কমিশন কোনও জবাব দেয়নি।
একইদিনে ভোট হয়েছে তামিলনাড়ু রাজ্যেও। তামিলনাড়ুতে ভোটগ্রহণ শেষে দেখা গেছে, ভোট পড়েছে আনুমানিক ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ।
ওদিকে, পশ্চিমবঙ্গে আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ১৪২টি আসনে। ৪ মে ভোট গণনা ও ফল প্রকাশ হবে।