Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

কুয়েতের বিদ্যুৎ পানি প্ল্যান্টে ইরানের হামলায় নিহত ১

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : সোমবার, ৩০ মার্চ,২০২৬, ০১:১৫ পিএম
কুয়েতের বিদ্যুৎ পানি প্ল্যান্টে ইরানের হামলায় নিহত ১

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের উত্তাপ এবার সরাসরি আঘাত হেনেছে উপসাগরীয় দেশ কুয়েতে। ইরানের হামলায় দেশটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ও পানি নিষ্কাশন (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্টে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, নিহত হয়েছেন এক শ্রমিক। সোমবার কুয়েতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “কুয়েতের বিরুদ্ধে ইরানের আগ্রাসনের অংশ হিসেবে একটি বিদ্যুৎ ও জল নিষ্কাশন প্ল্যান্টের সার্ভিস ভবনে হামলা চালানো হয়েছে। এতে একজন ভারতীয় শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং ভবনটির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।”

হামলার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় কারিগরি ও জরুরি প্রতিক্রিয়া দল। কর্তৃপক্ষ বলছে, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলা করে দ্রুত কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে কাজ চলছে।

কুয়েতের মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই হামলায় স্থাপনাটির উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কুয়েত সিটি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ চলার পর থেকেই কুয়েতে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটছে।

আর্ন্তজাতিক গনমাধ্যম জানায়, সম্প্রতি কুয়েতের আকাশসীমায় ১৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে কয়েকটি ড্রোন একটি সামরিক শিবিরকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে, যাতে আহত হন অন্তত ১০ জন সেনা সদস্য। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকেই অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই সংঘাতে ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা। সব মিলিয়ে ২ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে অন্তত ২১৬ জন শিশু রয়েছে। ধ্বংস হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় এমন সব দেশকে লক্ষ্য করছে, যেখানে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক সম্পদ রয়েছে। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়ছে।

এর ফলে শুধু প্রাণহানিই নয়, বিদ্যুৎ, পানি ও জ্বালানি অবকাঠামোও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনায়। ইরান কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অবরুদ্ধ করে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে—দাম বেড়েছে, অস্থির হয়ে উঠেছে অর্থনীতি।

তবে ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে—তাদের স্থাপনায় হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা আঘাত হানা হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধ নতুন এক বাস্তবতা সামনে এনে দিয়েছে—পানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো এখন সরাসরি হামলার লক্ষ্যবস্তু।

বিশ্বের সবচেয়ে পানি-সংকটপূর্ণ অঞ্চলের একটি মধ্যপ্রাচ্যে এমন হামলা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে—এই সংঘাত সীমান্তে আটকে নেই।

বরং এটি ছড়িয়ে পড়ছে পুরো অঞ্চলে, আর তার ঢেউ লাগছে সাধারণ মানুষের জীবন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে।

ধ্রুব/এস.আই

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)