ধ্রুব ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছবি: ফাইল
কোনো রাখঢাক না করেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি জানিয়ে দিলেন তিনি ইরানের জ্বালানি তেল ও খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ চান । বিবিসির দেয়া তথ্য মতে, গতকাল রোবববার ফিনান্সিয়াল টাইমস পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে এই অভিমত ব্যক্ত করেন । তিনি বলেন, ইরানের জ্বালানি তেলের নিয়ন্ত্রণ চাই। একই সঙ্গে ইরানের খারগ দ্বীপের রপ্তানি কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণও চায় ওয়াশিংটন।
ফিনান্সিয়াল টাইমসকে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমার সবচেয়ে পছন্দের কাজ ইরানের জ্বালানি তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে কিছু বোকা লোক বলছে, ‘আপনি এটা কেন করছেন?’ ওরা আসলেই বোকা।’
ওই সাক্ষাতকারে, ট্রাম্প একে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে তুলনা করেছেন । দেশটির রাজধানী কারাকাসে গত জানুয়ারিতে সামরিক অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী। সে সময় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে স্ত্রীসহ তুলে এনে নিউইয়র্কে আটক রাখা হয়েছে। এরপর থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে থাকা ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের ইচ্ছার কথা জানিয়ে আসছে ওয়াশিংটন।
ট্রাম্প বলেন, ‘হয়তো আমরা খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেব, কিংবা হয়তো নেব না। আমাদের হাতে অনেকগুলো বিকল্প আছে’। তিনি আরও বলেন, ‘সেখানে আমাদের কিছুদিন অবস্থান করতে হতে পারে।’
সাক্ষাতকারে খারগ দ্বীপে থাকা ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় না, ইরানের কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে। আমরা খুব সহজে এটি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারি।’
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায়, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ ইরান। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ইরানের খনিগুলোতে মজুত তেলের পরিমাণ কমপক্ষে ২০৮.৬ বিলিয়ন ব্যারেল, যা বিশ্বের মোট মজুতের প্রায় ১১.৮২ শতাংশ। ভেনেজুয়েলা ও সৌদি আরবের পর এটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেলের মজুতকারী দেশ। ইরানের অর্থনীতি অনেকাংশে তেল রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল এবং প্রায় ৯০ শতাংশ সিংহভাগ তেল চিনে রপ্তানি করা হয়।
পারস্য উপসাগরে ইরানের উপকূল থেকে ২৬ কিলোমিটার এবং হরমুজ প্রণালি থেকে ৪৮৩ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত খারগ দ্বীপ। ৫ বর্গমাইল আয়তনের দ্বীপটি ইরানের জ্বালানি বাণিজ্যের ‘প্রাণ’ হিসেবে পরিচিত। দেশটির ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এবং তরল গ্যাসের চালান এই দ্বীপ থেকেই বহির্বিশ্বে যায়। কৌশলগতভাবেও এ দ্বীপটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ধ্রুব/টিএম