ধ্রুব ডেস্ক
ক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছবি: ফাইল
হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়ার পর এক প্রকার বিপাকে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রণালিটি নিরাপদ রাখার অজুহাতে শেষ অবধি সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে চীনের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে চীন তাতে সাড়া দেয়নি। এর আগে মিত্র যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, গ্রিস, স্পেসসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রায় কোনো দেশ ট্রাম্পের আহ্বানে এখন পর্যন্ত সাড়া দেয়নি। ফলে সাড়া না পেয়ে বেশ হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন ট্রাম্প।
এ প্রেক্ষিতে ট্রাম্প বুধবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়েছেন। ইরানের এখনো যা কিছু ‘অবশিষ্ট’ আছে তা-ও শেষ করে দেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সেই সব দেশের ওপর ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন, যারা জলপথটি ব্যবহার করে।এএফপি ও আল-জাজিরার বরাত দিয়ে খবরটি ছড়িয়ে পড়েছে গণমাধ্যমে।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন নেই জানিয়ে পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি ভাবছি, আমরা যদি ইরানি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের অবশিষ্টাংশ শেষ করে দিই এবং যারা এই প্রণালি ব্যবহার করে তাদের হাতে এর দায়িত্ব ছেড়ে দিই—তা হলে কী ঘটবে? কারণ আমরা তো এটি ব্যবহার করি না। এটি আমাদের অনেক নিষ্ক্রিয় মিত্রদের দ্রুত লাইনে নিয়ে আসবে!’
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা শুরু করে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। যুদ্ধের আগে এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি করা হতো।
ইরান বারবার বলেছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ নয়, খোলা। তবে হামলা বন্ধ না করলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদের কোনো জাহাজকে প্রণালি পার হতে দেওয়া হবে না। পার হতে চেষ্টা করলে হামলা চালানো হবে। এ পর্যন্ত সেখানে অন্তত ১৬টি জাহাজ ও ট্যাংকারে হামলা হয়েছে। তবে, যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের অনুমতি নিয়ে ভারত, তুরস্ক ও পাকিস্তানের কয়েকটি ট্যাংকার প্রণালিটি পার হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম হু হু করে বেড়েছে। বুধবার প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১০৮ ডলার ছাড়িয়েছে, যা যুদ্ধ আগের তুলনায় ৪০ ডলারের বেশি। জ্বালানির দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হয়েছে।
এই চাপ মোকাবেলায় যুদ্ধের শুরু থেকে ন্যাটো ও এশিয়ার মিত্রদের হরমুজে যুদ্ধ জাহাজ পাঠাতে আহ্বান জানিয়ে আসছেন ট্রাম্প। কিন্তু কয়েক দফা আহ্বান সত্ত্বেও যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, গ্রিস, স্পেসসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রায় কোনো দেশ ট্রাম্পের আহ্বানে এখন পর্যন্ত সাড়া দেয়নি। এগুলো সব ন্যাটোভুক্ত দেশ। এশিয়ার যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ জাপান ও অস্ট্রেলিয়াও হরমুজে জাহাজ পাঠাবে না বলে জানিয়েছে। শুধু দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে তারা ট্রাম্পের আহ্বান বিবেচনা করে দেখবে।
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা হরমুজ উপকূলের কাছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ধ্বংস করতে বিশাল ‘বাংকার-বাস্টার’ বোমা ব্যবহার করছে।