আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০২৫ সালের ২৫ জুন ওমানের উত্তর মুসান্দাম উপদ্বীপের খাসাব উপকূলে হরমুজ প্রণালীতে একটি জাহাজ দেখা যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ২০ হাজার নাবিক এবং ১৫ হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইএমও’র মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ বলেন, সংঘাতের কারণে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক নাবিক ও যাত্রী উপসাগরে আটকে পড়েছেন।
ডোমিঙ্গেজ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত নাবিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত আইএমও।
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর এখন পর্যন্ত ওই অঞ্চলে জাহাজকে কেন্দ্র করে অন্তত সাতটি ঘটনার তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি। এসব ঘটনায় দুইজন নিহত এবং আরও সাতজন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
ডোমিঙ্গেজ বলেন, এ ধরনের হামলার অর্থনৈতিক প্রভাবের বাইরে এটি একটি মানবিক সংকটও। নিরীহ নাবিকদের ওপর কোনো ধরনের হামলাই কখনও ন্যায্য হতে পারে না।
আইএমওর মহাসচিব আরও বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে চলাচলের সময় সব শিপিং কোম্পানিকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়।
পরিস্থিতির কারণে ডেনমার্কভিত্তিক শিপিং জায়ান্ট মার্স্কসহ কয়েকটি বড় শিপিং কোম্পানি উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন বুকিং স্থগিত করেছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বুধবার (৮ মার্চ) দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালির ওপর ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করেছে। একই সঙ্গে আরও কিছু জাহাজ হামলার শিকার হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
জ্বালানি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলার জানিয়েছে, গত সপ্তাহের তুলনায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে।
এদিকে জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে মার্কিন নৌবাহিনী ট্যাংকারগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাবে।