আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে তীব্র সামরিক উত্তেজনা চলার মধ্যেই লাতিন আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরে ‘সন্ত্রাসবাদ বিরোধী’ সামরিক অভিযান শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করেছে, তারা ইকুয়েডরের মাটিতে সক্রিয় মাদক-সন্ত্রাসীদের দমনে দেশটির সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সহযোগিতার একটি নতুন পর্যায় শুরু করেছে। খবর আল জাজিরার।
মার্কিন দক্ষিণ কমান্ড (সাউথকস) বুধবার (৪ মার্চ) জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) থেকে ইকুয়েডর ও মার্কিন সামরিক বাহিনী দেশটির অভ্যন্তরে মনোনীত সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান শুরু করেছে। জেনারেল ফ্রান্সিস ডোনোভান এই পদক্ষেপকে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে মাদক-সন্ত্রাসবাদের ভয়াবহতা মোকাবিলায় একটি ‘শক্তিশালী উদাহরণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অভিযানের সমর্থনে সামরিক হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন ও আকাশ থেকে নজরদারির ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদক কার্টেলগুলোকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করে সামরিক পন্থায় দমনের নীতি গ্রহণ করেছেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট এই অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, ‘আমরা সেই মাদক-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছি যারা গোলার্ধ জুড়ে সন্ত্রাস ও দুর্নীতি চালিয়ে আসছে।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ল্যাটিন আমেরিকান নেতাদের অপরাধী নেটওয়ার্ক দমনে আরও আক্রমণাত্মক হতে উৎসাহিত করছেন। ইকুয়েডরের ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়াও ট্রাম্পের এই ‘লোহার মুষ্টি’ বা কঠোর পদ্ধতির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে একে ‘নতুন পর্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আপাতত মার্কিন বাহিনী গোয়েন্দা তথ্য ও রসদ সরবরাহের মাধ্যমে ইকুয়েডরের সৈন্যদের সহায়তা করছে। তবে এই অভিযানের আইনগত ভিত্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
সমালোচকদের মতে, আন্তর্জাতিক আইনে মাদক পাচার একটি অপরাধ, ‘যুদ্ধের কাজ’ নয়। ফলে সামরিক হামলা চালিয়ে সন্দেহভাজনদের হত্যা করা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শামিল হতে পারে।
ইতোমধ্যে ক্যারিবিয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ৪৪টি বিমান হামলায় প্রায় ১৫০ জন নিহত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নিহতদের অনেকে সাধারণ জেলে বা অনানুষ্ঠানিক কর্মী ছিলেন, মাদক পাচারকারী নন।
ভেনেজুয়েলার মাটিতে সামরিক পদক্ষেপ ও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহণ করে কারারুদ্ধ করার পর ইকুয়েডরে এই অভিযান ট্রাম্পের মাদকবিরোধী যুদ্ধের একটি নতুন ফ্রন্ট হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২০ সালের পর থেকে ইকুয়েডরে অপরাধ ও খুনের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রেসিডেন্ট নোবোয়া মার্কিন সাহায্যকে স্বাগত জানিয়েছেন। অন্যদিকে, কলম্বিয়ার মতো প্রতিবেশী দেশগুলো যারা এই সামরিক পদ্ধতিতে সায় দিচ্ছে না, তাদের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সিনিয়র উপদেষ্টা ব্রায়ান ফিনুকেন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, প্রশাসন সম্ভবত ‘মাদক-সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক ‘বুটস অন দ্য গ্রাউন্ড’ বা সরাসরি সেনা উপস্থিতি নিয়ে গর্ব করতে আগ্রহী। তাঁর মতে, ইকুয়েডর এক্ষেত্রে মেক্সিকোর তুলনায় অনেক বেশি সহনশীল আচরণ করছে।