ধ্রুব ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের একটি অবৈধ কয়লা খনিতে বিস্ফোরণের পর কমপক্ষে ১৮ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন খনিটির ভেতরে আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে পূর্ব জৈন্তিয়া পাহাড় জেলার থাংস্কু এলাকায় অবৈধ কয়লা উত্তোলনের সময় এই ঘটনা ঘটে।
রাজ্য পুলিশ বলেছেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত ১৮টি লাশ উদ্ধার করেছি। বিস্ফোরণের সময় খনির ভেতরে ঠিক কতজন শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কবে আরও অনেক লোক আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে’।
পূর্ব জৈন্তিয়া পাহাড়ের পুলিশ সুপার (এসপি) বিকাশ কুমার খনিটি অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছিল কিনা জানতে চাইলে কুমার বলেন, ‘হ্যাঁ, মনে হচ্ছে তাই।’ তিনি আরও বলেন, বিস্ফোরণের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং তদন্ত করা হবে।
এদিকে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক এক্স বার্তায় মোদি বলেন, ‘মেঘালয়ের পূর্ব জৈন্তিয়া পাহাড়ের দুর্ঘটনায় আমি ব্যথিত। যারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন তাদের প্রতি সমবেদনা। আহতরা দ্রুত আরোগ্য লাভ করুক।’ মোদি কার্যালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকেনিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ রুপি এবং আহতদের ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমাও গভীর শোক জানিয়েছেন এবং দুর্ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে কনরাড সাংমা বলেছেন, কয়লা খনি শ্রমিকদের জন্য বিকল্প জীবিকা তৈরি না করা হলে রাজ্য সরকারের পক্ষে অবৈধ কয়লা খনন ও কয়লা পরিবহন পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়।
র্যাট-হোল মাইনিং একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক খনন পদ্ধতি, যা মেঘালয়, আসাম ও উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যান্য রাজ্যে প্রচলিত। এই পদ্ধতিতে খুব সরু সুড়ঙ্গ খোঁড়া হয়, যেখানে একবারে মাত্র একজন মানুষ ঢুকতে পারে এবং কয়লা উত্তোলন করে। এতে মূলত কয়লা ব্যবসায়ীরাই লাভবান হয়। এই ধরনের অবৈধ ও অনিরাপদ খনিতে কাজ করতে গিয়ে বহু শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়েছেন এবং পরবর্তীতে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, জাতীয় সবুজ ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি) ২০১৪ সালে মেঘালয়ে পরিবেশগত ক্ষতি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ‘র্যাট-হোল’ (সাধারণত ৩-৪ ফুট উঁচু সরু সুড়ঙ্গ খনন করা হয়) এবং অন্যান্য অবৈজ্ঞানিকভাবে কয়লা খনির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, একই সাথে এই ধরনের পদ্ধতির মাধ্যমে উত্তোলিত কয়লা অবৈধ পরিবহণকেও সীমিত করেছিল। তবে তা সত্ত্বেও অবৈধভাবে কয়লা উত্তোলন চলছে এবং প্রায় এই ধরনের দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়।