ধ্রুব ডেস্ক
ইরানের সরকারি স্থাপনায় আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা ছবি: সংগৃহীত
বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হয়ে কাজ করার অভিযোগ তুলেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি । দাঙ্গাকারীরা সরকারি সম্পত্তিতে হামলা চালাচ্ছে জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন, বিদেশিদের ভাড়াটে হিসেবে কাজ করা কোনো ব্যক্তিকে তেহরান সহ্য করবে না
তীব্র মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের জেরে শুরু হওয়া বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশটিকে কার্যত বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। বিক্ষোভ দেশজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ (ব্ল্যাকআউট) করে দিয়েছে সরকার। এর ফলে আন্তর্জাতিক ফোন কল করা সম্ভব হচ্ছে না, বাতিল হয়েছে বহু ফ্লাইট। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলোও কেবল অনিয়মিতভাবে তথ্য আপডেট করতে পারছে। খবর রয়টার্স।
বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হয়ে কাজ করার অভিযোগ তুলেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি । দাঙ্গাকারীরা সরকারি সম্পত্তিতে হামলা চালাচ্ছে জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন, বিদেশীদের ভাড়াটে হিসেবে কাজ করা কোনো ব্যক্তিকে তেহরান সহ্য করবে না।
ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতন ও ৪১ শতাংশের বেশি মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে এ বিক্ষোভের সূত্রপাত। বর্তমানে ১ মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মান দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪ লাখ ৫০ হাজার রিয়াল। গত বছর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি ও সেপ্টেম্বরে পুনর্বহাল হওয়া বিশ্বব্যাপী নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের অর্থনীতি এখন খাদের কিনারায়। প্রাথমিক পর্যায়ে অর্থনৈতিক দাবিতে আন্দোলন শুরু হলেও বর্তমানে তা সরাসরি শাসকগোষ্ঠীর পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নিয়েছে।
খামেনেইর হুঁশিয়ারি ও সরকারি অবস্থান
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই আজ এক ভাষণে বিক্ষোভকারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বিক্ষোভকারীদের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাড়াটে সেনা" হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র লাখ লাখ শহীদের রক্তে গড়া। দুর্বৃত্তদের সামনে এ সরকার মাথা নত করবে না। সরকারি গণমাধ্যমগুলো অভিযোগ করেছে যে, বিরোধী সংগঠন এমকেও বিদেশি শক্তির মদতে এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।
সহিংসতার চিত্র
মানবাধিকার গোষ্ঠী ‘হেঙ্গাও’ জানিয়েছে, ইরানের বালুচ অধ্যুষিত জাহিদান শহরে জুমার নামাজের পর প্রতিবাদ মিছিলে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালিয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের (যেমন এইচআরএএনএ) তথ্যমতে, গত ১২ দিনের বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৩৮ থেকে ৪৫ জন নিহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে দুই হাজারের বেশি মানুষকে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে সরকারি স্থাপনা, মেট্রো স্টেশন, ব্যাংক ও বাসে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। এমনকি ইসফাহানে সরকারি টিভি চ্যানেলের ভবনেও আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও নির্বাসিত বিরোধী দল
ইরানের বাইরে অবস্থানরত বিরোধী গোষ্ঠীগুলো আরও বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছে। নির্বাসিত শাহজাদা রেজা পাহলভি এক বার্তায় জনগণকে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিশ্বের নজর এখন তোমাদের ওপর।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের শাসকদের সতর্ক করে বলেছেন, সরকার যদি সাধারণ মানুষকে হত্যা শুরু করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তবে তিনি পাহলভির সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিষয়টিকে অনভিপ্রেত"বলে উল্লেখ করেছেন।