আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ইলন মাস্ক। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০ জন রাজনৈতিক অর্থদাতা কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নির্বাচনে প্রায় ২০০ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন। এর বড় অংশ গেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির পক্ষে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের 'নীল জোয়ার' ঠেকাতে পারেনি ইলন মাস্কসহ দেশটির শীর্ষ ধনকুবের, বিশেষ স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক তহবিলগুলোর বিপুল অর্থব্যয়। নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করতে দেশটির সবচেয়ে ধনী ২০ ব্যক্তি প্রায় ২০০ কোটি ডলার ব্যয় করলেও প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণই রিপাবলিকানদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনী চক্রে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ২০ জন রাজনৈতিক অর্থদাতা কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নির্বাচনে প্রায় ২০০ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন। এর বড় অংশ গেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির পক্ষে।
তবে বিপুল অর্থব্যয়ও নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিতে পারেনি। টেক্সাসে ইলন মাস্কের অর্থায়নে রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটন সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট জেমস টালারিকোর কাছে হেরে গেছেন। ওহাইওতে নিজের প্রচারে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও গভর্নর হতে পারেননি ধনকুবের বিবেক রামস্বামী। জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাট কেইশা ল্যান্স বটমস রিপাবলিকান ধনকুবের রিক জ্যাকসনকে পরাজিত করেছেন। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটও ডেমোক্র্যাট জিনা হিনোজোসার কাছে পরাজয় স্বীকার করেছেন।
নির্বাচন পূর্বাভাসবিষয়ক ওয়েবসাইট 'রেস টু দ্য হোয়াইট হাউস'-এর প্রতিষ্ঠাতা লোগান ফিলিপস ফর্চুনকে বলেন, 'আমার মনে হয়, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে বড় অর্থের প্রভাবের বিরুদ্ধে এটি সম্ভবত সবচেয়ে বড় পরাজয়।'
তার মতে, সুপ্রিম কোর্টের ধারাবাহিক কয়েকটি সিদ্ধান্তের ফলে ধনকুবের ও বিশেষ রাজনৈতিক তহবিলগুলোর প্রায় সীমাহীন অর্থ ব্যয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এত অর্থ ব্যয়ের পরও ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন।
নির্বাচনে বড় অর্থদাতাদের ভূমিকা ও তাদের অনুদানের পরিমাণ নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে যেসব ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, তারা হলেন—
ইলন মাস্ক
বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক এবারের নির্বাচনী চক্রে অন্য সবার চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে অর্থের প্রবাহ পর্যবেক্ষণকারী নির্দলীয় সংগঠন ওপেনসিক্রেটসের হিসাব অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারে প্রার্থীদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে তিনি ৪৪ কোটি ৫৫ লাখ ডলার ব্যয় করেছেন।
মাস্ক বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা, রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স পরিচালনা করেন। ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের সরকারি ব্যয় কমানোর দায়িত্বে থাকা সরকারি দক্ষতা বিভাগের নেতৃত্বও দিয়েছিলেন তিনি।
এবারের নির্বাচনে মাস্ক রিপাবলিকানদের পক্ষে অর্থ ব্যয় করেছেন। তার দেওয়া অর্থের মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশেষ রাজনৈতিক তহবিল 'আমেরিকা প্যাক'-এর জন্য ২১ কোটি ৬০ লাখ ডলার এবং রিপাবলিকানদের সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার জন্য কাজ করা 'সিনেট লিডারশিপ ফান্ড'-এর জন্য ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
তার অর্থের বড় একটি অংশ গেছে টেক্সাসে। সেখানে সিনেট নির্বাচনে কেন প্যাক্সটনের পক্ষে তিনি প্রায় ২১ কোটি ২০ লাখ ডলার ব্যয় করেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাট জেমস টালারিকোর কাছে হেরে যান প্যাক্সটন।
নির্বাচন বিশ্লেষক লোগান ফিলিপসের হিসাব অনুযায়ী, মাস্কের মোট রাজনৈতিক ব্যয় প্রায় ৪৫ কোটি ডলার। কিন্তু এত অর্থ ব্যয় করেও টালারিকোর ১০ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় ঠেকানো যায়নি।
ফিলিপসের মতে, মাস্কের অর্থায়নে প্রচারিত আক্রমণাত্মক বিজ্ঞাপনগুলো উল্টো টালারিকোর নির্বাচনী প্রচারের হাতিয়ার হয়ে ওঠে। একটি বিজ্ঞাপনে টালারিকো টেলিভিশনের দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে মাস্কের অর্থায়নে প্রচারিত বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দেখিয়ে অভিযোগ করেন, মাস্ক অর্থ দিয়ে নির্বাচন কিনতে চাইছেন।
নির্বাচনের দিন এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে নিজের অনুসারীদের রিপাবলিকানদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন মাস্ক। পরে পোস্টটি মুছে ফেলা হয়। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর তিনি লেখেন, 'মনে হচ্ছে, এবার আমার নির্বাচনে হস্তক্ষেপকারী মহাকাশ লেজারগুলো কাজ করেনি।'
রিচার্ড ও এলিজাবেথ উলিন
যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য পরিবহন, মোড়কজাতকরণ ও শিল্পসামগ্রী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'ইউলাইন'-এর পেছনে রয়েছেন রিচার্ড ও এলিজাবেথ উলিন দম্পতি। এবারের নির্বাচনে তারা ১৫ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন। তাদের অধিকাংশ অর্থ গেছে রিপাবলিকান ও রক্ষণশীল রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর কাছে।
তাদের সবচেয়ে বড় অনুদানের পরিমাণ প্রায় ১৩ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। এই অর্থ দেওয়া হয়েছে 'রেস্টোরেশন অব আমেরিকা' নামের একটি সংগঠনকে। সংগঠনটি কংগ্রেসের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থন করে।
এ ছাড়া রক্ষণশীল বিচার বিভাগীয় প্রার্থী এবং রিপাবলিকান কংগ্রেস প্রার্থীদের সমর্থনকারী বিভিন্ন সংগঠনেও অর্থ দিয়েছেন তারা।
জেফ ইয়াস
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান 'সুসকেহান্না ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ'-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা জেফ ইয়াস দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকান পার্টির অন্যতম বড় অর্থদাতা।
ফোর্বসের আগস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার এককভাবে দেওয়া সবচেয়ে বড় অনুদানের পরিমাণ ছিল ২ কোটি ডলার। এই অর্থ দেওয়া হয়েছিল ওহাইওর গভর্নর নির্বাচনে বিবেক রামস্বামীকে সমর্থনকারী একটি বিশেষ রাজনৈতিক তহবিলে।
জীবপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা রামস্বামীও নিজের নির্বাচনী প্রচারে দুই কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয় করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যামি অ্যাক্টনের কাছে হেরে যান তিনি। অ্যাক্টন ৫২ শতাংশ এবং রামস্বামী ৪৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।
ওপেনসিক্রেটসের হিসাব অনুযায়ী, ইয়াসের মোট অর্থসহায়তার পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
জর্জ সরোস পরিবার
হাঙ্গেরিতে জন্ম নেওয়া মার্কিন বিনিয়োগকারী ও জনহিতৈষী জর্জ সরোস ডেমোক্র্যাটদের অন্যতম বড় অর্থদাতা। তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে প্রায় ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার অনুদান দেওয়া হয়েছে।
এই অর্থের একটি অংশ গেছে ২০১৯ সালে সরোসের প্রতিষ্ঠিত 'ডেমোক্রেসি প্যাক' নামের রাজনৈতিক তহবিলে। এটি বিভিন্ন ডেমোক্র্যাটপন্থী সংগঠনের মধ্যে অর্থ বিতরণ করে।
ফর্চুনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অর্থের প্রায় অর্ধেক এসেছে সরোসের ব্যক্তিগত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান 'জিওসর করপোরেশন' থেকে। বাকি অর্থ এসেছে 'ফান্ড ফর পলিসি রিফর্ম' থেকে। এটি সরোসের 'ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনস'-এর অংশ একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান।
মার্ক আন্দ্রিসেন ও বেন হোরোভিৎস
সিলিকন ভ্যালির বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান 'আন্দ্রিসেন হোরোভিৎস'-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্ক আন্দ্রিসেন ও বেন হোরোভিৎস। প্রতিষ্ঠানটি 'এ১৬জেড' নামেও পরিচিত।
এই দুই ধনকুবের রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় রাজনৈতিক দলকেই অনুদান দিয়েছেন।
ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের সবচেয়ে বড় অঙ্কের অনুদান গেছে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের প্রসারে কাজ করা বিশেষ রাজনৈতিক তহবিলগুলোতে। এ ছাড়া ট্রাম্পের রাজনৈতিক সংগঠন 'মাগা ইনকরপোরেটেড'-কেও অর্থ দিয়েছেন তারা।
এই হিসাবের মধ্যে তাদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দেওয়া অনুদানও রয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের হিসাব অনুযায়ী, দুজন মিলে মোট ১১ কোটি ৫৩ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছেন।
মাইকেল ব্লুমবার্গ
আর্থিক তথ্য ও সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠান 'ব্লুমবার্গ এলপি'-এর প্রতিষ্ঠাতা ধনকুবের মাইকেল ব্লুমবার্গ। তিনি নিউইয়র্ক শহরের তিন মেয়াদে নির্বাচিত সাবেক মেয়রও।
এবারের নির্বাচনে তিনি প্রায় ৮ কোটি ৪২ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছেন। এর অধিকাংশই গেছে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনে।
তার অনুদানের মধ্যে রয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন আরও কঠোর করার পক্ষে থাকা প্রার্থীদের সমর্থনকারী 'এভরিটাউন ফর গান সেফটি ভিক্টরি ফান্ড'-কে দেওয়া ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
এ ছাড়া প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয় নিশ্চিত করতে কাজ করা 'হাউস মেজরিটি প্যাক'-কে দিয়েছেন ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার। নিউইয়র্ক থেকে ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস প্রার্থী মাইকা ল্যাশারকে সমর্থনকারী 'স্ট্যান্ড ফর নিউইয়র্ক প্যাক'-কেও ১ কোটি ১০ লাখ ডলার দিয়েছেন তিনি।
মিরিয়াম অ্যাডেলসন
ক্যাসিনো ব্যবসায়ী ও 'লাস ভেগাস স্যান্ডস'-এর প্রতিষ্ঠাতা শেলডন অ্যাডেলসনের স্ত্রী মিরিয়াম অ্যাডেলসন। তিনি ইসরায়েলি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক।
রিপাবলিকানপন্থী বিভিন্ন সংগঠনকে তিনি প্রায় ছয় কোটি ৭৬ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছেন।
এর মধ্যে 'সিনেট লিডারশিপ ফান্ড'-কে একবারেই তিন কোটি ডলার দিয়েছেন তিনি। ফোর্বসের হিসাবে, ট্রাম্পের রাজনৈতিক সংগঠন 'মাগা ইনকরপোরেটেড'-এ গেছে আরও দুই কোটি ৫০ লাখ ডলার।
তবে এসব অর্থসহায়তা সত্ত্বেও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি রিপাবলিকানরা। মেইন ও মিশিগানে জয় ডেমোক্র্যাটদের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেতে সহায়তা করেছে।
পল সিঙ্গার
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান 'এলিয়ট ম্যানেজমেন্ট'-এর প্রতিষ্ঠাতা পল সিঙ্গার দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকান পার্টির অন্যতম বড় অর্থদাতা।
ওয়াশিংটন পোস্টের ২৩ অক্টোবরের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে তিনি প্রায় পাঁচ কোটি ৩৫ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছেন।
তার অনুদানের মধ্যে রয়েছে 'এসটিডব্লিউ প্যাক'-কে দেওয়া এক কোটি ৫১ লাখ ডলার। এ ছাড়া রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থীদের সমর্থনে কাজ করা 'সিনেট লিডারশিপ ফান্ড'-কে দিয়েছেন এক কোটি ৪৫ লাখ ডলার।
অন্যদিকে, প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনকারী 'কংগ্রেশনাল লিডারশিপ ফান্ড'-কে দিয়েছেন ৮০ লাখ ডলার।
নির্বাচনে বিপুল অর্থের প্রভাব
এবারের নির্বাচনে বড় অর্থদাতাদের বিপুল ব্যয় সত্ত্বেও ডেমোক্র্যাটদের জয় নিয়ে নির্বাচন বিশ্লেষক লোগান ফিলিপস বলেন, তার নির্বাচনী পূর্বাভাস মডেলে দীর্ঘদিন ধরেই দেখা যাচ্ছে, বাইরের রাজনৈতিক তহবিল থেকে আসা অর্থ নির্বাচনের ফলাফল অনুমানের ক্ষেত্রে খুব একটা কার্যকর নয়।
তার মতে, নির্বাচনে সাফল্যের ভালো পূর্বাভাস পাওয়া যায় সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত অনুদানের পরিমাণ দেখে। রাজনৈতিক তহবিলের অর্থ এবং প্রার্থীদের নিজেদের ব্যয় করা অর্থ বাদ দিয়ে ব্যক্তিগত অনুদান বিবেচনা করতে হয়।
এবারের নির্বাচনী চক্র শেষে ব্যক্তিগত অনুদান সংগ্রহের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রার্থীর মধ্যে শীর্ষে ছিলেন জেমস টালারিকো।
ফিলিপস বলেন, 'এক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটরা দারুণ করেছে। বিশেষ করে কেন প্যাক্সটনের বিরুদ্ধে জেমস টালারিকো।'
তার মতে, সাধারণ মানুষের অনুদান নির্বাচনের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে অনেক বেশি স্পষ্ট ও সঠিক চিত্র তুলে ধরেছিল।
ফিলিপসের ধারণা, এবারের নির্বাচনী ফলাফল দেখে ইলন মাস্কসহ অন্য ধনকুবেররা রাজনীতিতে এত বিপুল অর্থ ব্যয়ের আগে নতুন করে ভাববেন। তার ভাষায়, 'এটি নিশ্চিতভাবেই দেখিয়েছে, রাজনৈতিক অনুদানের ক্ষমতারও একটি সীমা রয়েছে।'
তবে সব জায়গায় ধনকুবেরদের অর্থায়ন ব্যর্থ হয়নি। ক্যালিফোর্নিয়ায় ধনকুবেরদের সম্পদের ওপর এককালীন ৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব পিছিয়ে ছিল। অন্যদিকে, এই কর ঠেকাতে ধনকুবেরদের সমর্থনে আনা পাল্টা প্রস্তাব এগিয়ে ছিল। অর্থাৎ, নির্বাচনে বড় অর্থের প্রভাব পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।