Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

❒ যশোরে তৈরি হচ্ছে দেশের অন্যতম আধুনিক হাসপাতাল

চিকিৎসার পাশাপাশি মিলবে সৌরবিদ্যুৎ, গ্যাস ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর,২০২৬, ০৫:৫২ এ এম
আপডেট : বুধবার, ১৪ অক্টোবর,২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
চিকিৎসার পাশাপাশি মিলবে সৌরবিদ্যুৎ, গ্যাস ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণ কাজ চলছে। ছবি: ধ্রুব নিউজ

কেবল গতানুগতিক চিকিৎসাসেবা নয়—বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, বর্জ্য থেকে জ্বালানি ও গ্যাস উৎপাদন, সৌরবিদ্যুৎ এবং সার্বিক নিরাপত্তার মতো অত্যাধুনিক সুবিধা নিয়ে গড়ে উঠছে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের স্বাস্থ্য খাতকে আমূল বদলে দিতে ৫০০ শয্যার এই হাসপাতাল ভবনের নকশায় যুক্ত করা হয়েছে পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর সব আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। আগামী ৫০ বছরের চাহিদা ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে হাসপাতালটিকে একটি বিশ্বমানের মডেলে রূপান্তর করতেই সংস্থানে আনা হয়েছে এসব পরিবর্তন।

নতুন নতুন এসব প্রযুক্তি ও সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করায় প্রকল্পের ব্যাপ্তি বেড়েছে। ফলে প্রাক্কলিত ব্যয়ের সঙ্গে অতিরিক্ত ৩০ কোটি টাকা যুক্ত করে মোট ৭১০ কোটি টাকার নতুন প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

ইতোমধ্যে হাসপাতালের মূল ভিত্তি তৈরির কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। প্রকল্পের প্রায় ৫ শতাংশ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। ভবনের সবচেয়ে জটিল ও কঠিন অংশ ছিল মাটির ৬০ ফুট গভীর থেকে পিলার তোলা; সেই ১ হাজার ৫০৭টি পিলারের কাজ শেষ হয়ে এখন মাটির ওপর দৃশ্যমান। ৮৭ হাজার বর্গফুট জমির ওপর এখন চলছে ভিত নির্মাণের কাজ।

যশোর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, প্রকল্পের পূর্বনির্ধারিত মেয়াদ গত জুনে শেষ হওয়ার পর জনস্বার্থে আধুনিক প্রযুক্তি ও সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ‘আনসার ব্যারাক’ অন্তর্ভুক্ত করে গত মার্চে নতুন প্রস্তাবনা পাঠানো হয়। ২০২৮ সালের মধ্যে পুরো হাসপাতালের কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

হাসপাতালটির নতুন নকশায় পরিবেশ ও জ্বালানি সুরক্ষায় বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বিশাল এই মেগা প্রকল্পে প্রচুর বিদ্যুৎ ও গ্যাসের প্রয়োজন হবে, যা শুধু জাতীয় গ্রিড বা লাইনের ওপর নির্ভর করে মেটানো সম্ভব নয়। তাই ভবনে স্থাপন করা হচ্ছে ‘রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং প্লান্ট’ (বৃষ্টির পানি ধরে রেখে বহুমুখী ব্যবহারের প্রযুক্তি), ‘গ্যাস প্লান্ট’ এবং ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট’। বর্জ্য পরিশোধনের মাধ্যমে উৎপন্ন হবে প্রচুর পরিমাণ জ্বালানি গ্যাস। পাশাপাশি থাকছে সৌরবিদ্যুতের (সোলার) ব্যবস্থা।

যশোর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. আহমেদ ফেরদৌস জাহাঙ্গীর সুমন বলেন, “মাটির নিচের জটিল পিলারিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। নতুন এসব প্রযুক্তিগত সংযোজনের মাধ্যমে যশোরবাসী একটি সম্পূর্ণ আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসাকেন্দ্র পেতে যাচ্ছে।”

যশোরের প্রাণপুরুষ মরহুম তরিকুল ইসলামের স্বপ্নের এই প্রকল্প বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সহায়তায় প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছিল এবং তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার এডিপিতে ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ রাজনৈতিক জটিলতায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এর নির্মাণকাজ পিছিয়ে পড়ে এবং তাদের করা পুরনো নকশায় সেবার সুযোগ-সুবিধাও ছিল সীমিত।

চলতি ২০২৬ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বর্তমান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রকল্পটিকে পুনরুজ্জীবিত করেন। তার উদ্যোগ ও পরামর্শে আগের প্রথাগত নকশা বাদ দিয়ে সোলার, বর্জ্য ও রেইন ওয়াটার প্লান্টসহ অত্যাধুনিক সব সেবা যুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২৭ এপ্রিল যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন করেন।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

সম্পর্কিত

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)