ধ্রুব ডেস্ক
অস্বাভাবিক রঙ দীর্ঘদিন থাকলে বা অন্য উপসর্গ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ছবি: সংগৃহীত
আমাদের শরীরের নানা পরিবর্তনের ইঙ্গিত অনেক সময় প্রস্রাবের রঙেই ফুটে ওঠে। পর্যাপ্ত পানি পান করছেন কি না, কোনো ওষুধ খাচ্ছেন কি না, এমনকি কিছু রোগের লক্ষণও প্রস্রাবের রঙ দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যায়। তবে শুধু রঙ দেখে নিশ্চিতভাবে কোনো রোগ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। অস্বাভাবিক রঙ দীর্ঘদিন থাকলে বা অন্য উপসর্গ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
দেখে নিন প্রস্রাবের রঙ যেভাবে বলে দেবে আপনার রোগ সম্পর্কে-
১. স্বচ্ছ বা একেবারে পরিষ্কার প্রস্রাব: একেবারে স্বচ্ছ প্রস্রাব সাধারণত অতিরিক্ত পানি পান করার ইঙ্গিত দেয়। এটি সবসময় ক্ষতিকর না হলেও অতিরিক্ত পানি পান করলে শরীরের প্রয়োজনীয় লবণের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
২. হালকা হলুদ: এটি সবচেয়ে স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর প্রস্রাবের রঙ। এর অর্থ হলো শরীরে পানির ভারসাম্য ঠিক আছে।
৩. গাঢ় হলুদ বা অ্যাম্বার রঙ: শরীরে পানির ঘাটতি হলে প্রস্রাব গাঢ় হলুদ হয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় এমন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।
৪. কমলা রঙ: কমলা রঙের প্রস্রাব পানিশূন্যতার কারণে হতে পারে। আবার কিছু ওষুধ, অতিরিক্ত ভিটামিন বি বা লিভার ও পিত্তথলির সমস্যার কারণেও এমন হতে পারে। সঙ্গে যদি চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যায়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
৫. গোলাপি বা লাল: প্রস্রাবে রক্ত থাকলে এটি গোলাপি বা লাল দেখাতে পারে। তবে বিট, ব্ল্যাকবেরি বা কিছু খাবার খাওয়ার পরও এমন হতে পারে। যদি খাবারের কারণে না হয়ে থাকে, তাহলে এটি কিডনিতে পাথর, মূত্রনালির সংক্রমণ, কিডনির রোগ বা অন্য কোনো গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
৬. বাদামি রঙ: গাঢ় বাদামি প্রস্রাব তীব্র পানিশূন্যতা, লিভারের সমস্যা বা কিছু ওষুধের প্রভাবে হতে পারে। কখনো কখনো অতিরিক্ত ব্যায়ামের পরও এমন দেখা যায়।
৭. নীল বা সবুজ: এটি তুলনামূলক বিরল। কিছু ওষুধ, খাদ্য রং বা বিরল জিনগত রোগের কারণে এমন হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে মূত্রনালির সংক্রমণও এর কারণ হতে পারে।
৮. সাদা বা দুধের মতো ঘোলা: ঘোলা প্রস্রাব মূত্রনালির সংক্রমণ, কিডনিতে পাথর বা প্রস্রাবে অতিরিক্ত খনিজ পদার্থের উপস্থিতির ইঙ্গিত দিতে পারে। দুর্গন্ধ, জ্বালাপোড়া বা জ্বর থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন—
১. প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে
২. কয়েক দিন ধরে অস্বাভাবিক রঙ থাকলে
৩. প্রস্রাবে তীব্র জ্বালাপোড়া বা ব্যথা হলে
৪. জ্বর, বমি বা কোমরে ব্যথা থাকলে
৫. প্রস্রাবের সঙ্গে দুর্গন্ধ বা ঘোলাভাব দীর্ঘদিন থাকলে