ধ্রুব ডেস্ক
ডিপ্লোমাধারী ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা টেকনোলজিস্টদের নিজস্ব চেম্বার খুলে স্বাধীনভাবে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার সুযোগ বাতিল ঘোষণা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। পূর্বে হাইকোর্টের দেওয়া একটি রায়কে খারিজ করে দিয়ে সর্বোচ্চ আদালত এই সিদ্ধান্ত জানান।
প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ বুধবার বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) দায়ের করা আপিল আবেদনটি মঞ্জুর করে এই আদেশ দেন।
আদালতের এই নতুন নির্দেশনার ফলে ডেন্টাল সহযোগীদের কাজের পরিধি পুনর্নির্ধারিত হয়েছে:
ডেন্টাল টেকনোলজিস্টরা এখন থেকে শুধুমাত্র নিবন্ধিত ও লাইসেন্সধারী ডেন্টাল সার্জনদের অধীনে সহকারী (অ্যাসিস্ট্যান্ট) হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
তারা নিজেরা কোনো প্রাইভেট চেম্বার খুলতে পারবেন না এবং স্বাধীনভাবে রোগী দেখে ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) দিতে পারবেন না।
আদালতে বিএমডিসির পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান ও আইনজীবী কাজী এরশাদুল হক। অপরপক্ষে, ডেন্টাল চিকিৎসকদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আহসানুল করিম ও আইনজীবী আনোয়ার হোসেন। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শিশির মনির ও আইনজীবী সায়েদা নাসরিন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ১৯৮৭ সালে শুরু হওয়া ৩ বছর মেয়াদি এবং ২০১৩ সাল থেকে ইন্টার্নশিপসহ ৪ বছর মেয়াদি ‘ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল)’ ডিগ্রিধারীদের পেশাগত স্বীকৃতি এবং স্বাধীনভাবে রোগী দেখার অনুমতি চেয়ে ২০১৬ সালে হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়। বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন এই আবেদনটি করেছিলেন।
ওই বছরের ১৩ জুন হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং পরবর্তীতে টেকনোলজিস্টদের পক্ষে রায় দেন। হাইকোর্টের সেই রায়ে ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের জন্য দাঁতের প্রাথমিক চিকিৎসা, লোকাল অ্যানেসথেশিয়া দিয়ে দাঁত তোলা, স্কেলিং, ফিলিং, রুট ক্যানেল ড্রেসিং এবং অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথানাশক ওষুধ লেখার অনুমতিসহ ১০টি কাজের পরিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। ২০১৭ সালে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে বিএমডিসি।
বুধবার চূড়ান্ত রায়ের পর ডেন্টাল চিকিৎসকদের আইনজীবী আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, এই ডিপ্লোমা কোর্সের মূল উদ্দেশ্যই হলো ডেন্টাল সার্জনদের দক্ষ সহযোগী তৈরি করা।
"এসএসসি পাসের পর শিক্ষার্থীরা এই ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হন। তাদের পুরো কারিকুলামটিই এমনভাবে সাজানো, যাতে তারা ডেন্টিস্টদের সহকারী হিসেবে কাজ করতে পারেন। কিন্তু তারা হাইকোর্টে আবেদনের মাধ্যমে স্বাধীন প্র্যাকটিসের অনুমতি পেয়েছিলেন, যেখানে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক লেখার মতো সংবেদনশীল বিষয়ও ছিল।"
আইনজীবী আনোয়ার হোসেন আরও স্পষ্ট করেন যে, সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের সেই রায়টি সম্পূর্ণ বাতিল করে দিয়েছেন। ফলে এখন থেকে ডেন্টাল সার্জনদের অধীনে কাজ করা ছাড়া টেকনোলজিস্টদের স্বাধীন চিকিৎসকের মতো আচরণ করার আইনি কোনো সুযোগ নেই। ভবিষ্যতে কর্তৃপক্ষ নতুন কোনো নিয়ম বিবেচনা করলে তা ভিন্ন বিষয়, তবে বর্তমান আইন অনুযায়ী তাদের ভূমিকা কেবলই সহকারীর।