ধ্রুব ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখার অনুমতি চেয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে আবেদন করেছে রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি থাকা ১১০ জন রোগীর মধ্যে অনেকেই সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে তাদের জীবনঝুঁকি বাড়তে পারে।
গত সোমবার হাসপাতালটির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক জামালুন্নেসার সই করা আবেদনে বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তারা আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সরকারের কাছে আপিল করবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনায় সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রাঙ্গণের আধুনিকায়ন, ভেন্টিলেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, মেডিকেল কলেজ ভবনে পরিচালিত বেকারি কার্যক্রম বন্ধ করা এবং ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সংস্কারসহ একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
বর্তমানে হাসপাতালে আইসিইউ ও এইচডিইউতে ৯ জন, সিসিইউতে ২ জন, এনআইসিইউতে ৪৩ জন, শিশু ওয়ার্ডে ২৯ জন, গাইনি ও প্রসূতি ওয়ার্ডে ৮ জন, মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে ৬ জন, মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ২ জন, পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে ৩ জন এবং কেবিনে ৮ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতোমধ্যে রেফার করা রোগীদের চিকিৎসার জন্য ছয়টি হাসপাতালকে নির্দেশনা দিয়েছে। তবে অনেক রোগীর পরিবার আর্থিক ও স্বাস্থ্যগত কারণে তাৎক্ষণিক স্থানান্তরকে কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন।
এ অবস্থায় মানবিক বিবেচনায় লাইসেন্স বাতিলের আদেশ কার্যকর স্থগিত রাখা অথবা অন্তত ভর্তি থাকা রোগীদের চিকিৎসা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালটি চালু রাখার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে সেবা অব্যাহত থাকলে রোগীদের ভোগান্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে গত ২৭ মে ভোরে হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছয় নবজাতক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং পরে তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর দেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং প্রতিবেদন পাওয়ার পর কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়ায় এবং অবহেলার প্রমাণের ভিত্তিতে ১৯৮২ সালের প্রাসঙ্গিক আইন অনুযায়ী হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে নোটিশে উল্লেখিত লাইসেন্স নম্বর নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। হাসপাতালের আইনজীবীর দাবি, নোটিশে উল্লেখ করা নম্বরটি হাসপাতালের নয়, বরং একটি প্যাথলজি সেন্টারের। হাসপাতালের প্রকৃত লাইসেন্স নম্বর ভিন্ন বলে দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নোটিশে মুদ্রণজনিত ভুল থাকতে পারে, তবে এতে সিদ্ধান্তের কোনো পরিবর্তন হবে না। তার মতে, লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট এবং এ নিয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের দায়িত্বশীল অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন ছিল এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সিদ্ধান্তটি চ্যালেঞ্জ করবে বলে জানিয়েছে।