নিজস্ব প্রতিবেদক
‘পাঠাভ্যাস হোক জ্ঞান অর্জনের ভিত্তি’ প্রতিপাদ্যে রোববার সকালে ইনস্টিটউটের আলমগীর সিদ্দিকী হলে লাইব্রেরি কার্ড বিতরণ করা হয়। ছবি: ধ্রুব নিউজ
মোবাইল আর ট্যাবের রঙিন পর্দার বাইরে শহরের শিশুদের আবার বইমুখী করতে এক জায়গায় হয়েছিল পাঁচ প্রতিষ্ঠানের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী। উপলক্ষ—যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরির লাইব্রেরি কার্ড ও বই বিতরণ কার্যক্রম।
‘পাঠাভ্যাস হোক জ্ঞান অর্জনের ভিত্তি’ প্রতিপাদ্যে রোববার সকালে ইনস্টিটউটের আলমগীর সিদ্দিকী হলে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল একটাই—প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে শিক্ষার্থীদের বই পড়ার চর্চায় ফিরিয়ে আনা।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শিক্ষাবিদ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, “জ্ঞানার্জনের কোনো বিকল্প নেই, আর তার প্রধানতম চাবিকাঠি হলো বই পড়ার অভ্যাস।” তিনি উল্লেখ করেন, নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস শুধু পরীক্ষানির্ভর ভালো ফলাফলেই সীমিত রাখে না, বরং এটি শিক্ষার্থীদের যুক্তিবাদী ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। এজন্য পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি ইতিহাস, সাহিত্য ও বিজ্ঞান চর্চায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের ভূমিকা নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
লাইব্রেরিকে জ্ঞানের বাতিঘর উল্লেখ করে তিনি বলেন, "শিক্ষার্থীদের হাতে আজ যে লাইব্রেরি কার্ড তুলে দেওয়া হচ্ছে, তা বইয়ের বিস্তৃত জগতে প্রবেশের একটি মাধ্যম। নিয়মিত লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠলে শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফলই করবে না, বরং যুক্তিবাদী, সৃজনশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।"
আগামী দিনের নেতৃত্ব গঠনে বইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, "আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ পরিচালনা করবে। তাদের জ্ঞানী, দক্ষ ও নৈতিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে বই পড়ার বিকল্প নেই।" একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাসে উৎসাহিত করতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
যশোর ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক এ. জেড. এম. সালেকের সভাপতিত্বে ও লাইব্রেরি সম্পাদক অধ্যাপক শেখ জুলফিকার আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন এমএসটিপি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ খায়রুল আনাম, ইসলামিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল হক এবং মিউনিসিপ্যাল প্রিপারেটরি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর সবুর খান।
অনুষ্ঠানে যশোর ইনস্টিটিউটের ক্রীড়া সম্পাদক শাহাবুদ্দিন সাবু, সদস্য আনিসুজ্জামান পিন্টু, শাহনেওয়াজ লেলীন, হাবিবুর রহমান রুবেল এবং লাইব্রেরি কমিটির সদস্য সাইফুদ দৌলা বাশারসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে যশোর জিলা স্কুল, যশোর কালেক্টরেট স্কুল, এমএসটিপি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মিউনিসিপ্যাল প্রিপারেটরি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ইসলামিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে উপহারের বই ও যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরির সদস্য কার্ড তুলে দেওয়া হয়।