Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

শহরে প্রজন্মের অচেনা দেশি খেজুর, জ্যৈষ্ঠে মিলছে সেই চেনা স্বাদ

এম জামান এম জামান
প্রকাশ : শুক্রবার, ১২ জুন,২০২৬, ০৩:০৭ পিএম
আপডেট : শুক্রবার, ১২ জুন,২০২৬, ০৪:৩২ পিএম
শহরে প্রজন্মের অচেনা দেশি খেজুর, জ্যৈষ্ঠে মিলছে সেই চেনা স্বাদ

জ্যৈষ্ঠের মিষ্টি স্বাদে দেশি খেজুর, হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার এক ঐতিহ্য ছবি: সংগৃহীত

আজকের প্রজন্মের কাছে 'খেজুর' মানেই যেন সৌদি আরব বা মধ্যপ্রাচ্যের বড়, মাংসল ও রসালো ফল। সুপারশপ বা ফলের দোকানে সাজিয়ে রাখা বাহারি নামের সেসব বিদেশি খেজুরের ভিড়ে বর্তমান প্রজন্ম চেনেই না আমাদের মাটির নিজস্ব দেশি খেজুরকে। আকারে কিছুটা ছোট আর শাস কম হলেও, স্বাদে ও সুবাসে এই দেশি খেজুর যে অনন্য ও অতুলনীয়—তা আজকের তরুণদের প্রায় অজানা। অথচ, গ্রামীণ ঐতিহ্য আর শৈশবের স্মৃতি জড়ানো এই ফলটি এখনো জ্যৈষ্ঠের খরতাপে জানান দেয় তার অস্তিত্ব।

বাংলা মাসের জ্যৈষ্ঠ মানেই রসালো ও সুস্বাদু দেশি ফলের মৌসুম। প্রকৃতি এ সময় যেন তার রঙিন ভাণ্ডার উজাড় করে দেয়। আম, কাঁঠাল, জাম, লিচুর পাশাপাশি গ্রামবাংলায় এখন পেকে ওঠে দেশি খেজুরও। গ্রামের মাঠ-ঘাট, রাস্তার ধারে কিংবা জমির আইলে দাঁড়িয়ে থাকা খেজুর গাছগুলোতে ঝুলতে থাকে থোকা থোকা পাকা খেজুর। মিষ্টি স্বাদ ও মনোমুগ্ধকর ঘ্রাণে ভরপুর এই ফল গ্রামবাংলার মানুষের কাছে বরাবরই বিশেষ আকর্ষণের।

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের খেজুরের ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকলেও স্বাদে ও গুণে দেশীয় পাকা খেজুর কোনো অংশেই কম নয় বলে মনে করেন গ্রামাঞ্চলের মানুষ। বরং গাছ থেকে সদ্য পাড়া টাটকা খেজুরের স্বাদই আলাদা। তাই জ্যৈষ্ঠ মাস এলেই গ্রামের শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে তরুণদের মধ্যে এখনো খেজুর পাড়ার উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।

সকালের আলো ফুটতেই গ্রামীণ দূরন্ত শিশুরা খেজুর গাছে চড়ে পাকা খেজুর সংগ্রহে নেমে পড়ে। কেউ গাছে উঠে, আবার কেউ বাঁশের লগা দিয়ে খেজুরের থোকা খুচিয়ে নিচে ফেলে। মাটিতে পড়ে থাকা খেজুর কুড়িয়ে ঝুড়ি বা ব্যাগে ভরে বাড়ি নিয়ে যায় তারা। এ যেন গ্রামবাংলার চিরচেনা এক আনন্দঘন দৃশ্য। মানুষের পাশাপাশি প্রকৃতির নানা প্রাণীরও খাদ্যের অন্যতম উৎস এই দেশি খেজুর। বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, কাঠবিড়ালি এবং অন্যান্য বন্যপ্রাণী এই মৌসুমে খেজুর খেয়ে জীবনধারণ করে। ফলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও খেজুর গাছের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

সম্প্রতি যশোরের লেবুতলা এলাকার একটি মাঠে দেখা যায় কয়েকজন যুবক রাস্তার পাশের খেজুর গাছ থেকে পাকা খেজুর সংগ্রহ করছেন। গাছে হালকা ঝাঁকি দিতেই টুপটাপ করে মাটিতে ঝরে পড়ছে পাকা খেজুর। এরপর সেগুলো কুড়িয়ে সংগ্রহ করছেন তারা। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে পাকা খেজুরের মিষ্টি ঘ্রাণ। স্থানীয়রা জানান, এ সময়ের খেজুর অত্যন্ত সুস্বাদু ও রসালো হওয়ায় এলাকার মানুষ আগ্রহ নিয়ে তা সংগ্রহ করেন।

খেত দেখতে এসে খেজুর সংগ্রহে মেতে ওঠা স্থানীয় যুবক জিহাদ হোসেন বলেন, “মাঠে ফসল দেখতে এসেছিলাম। এসে দেখি গাছে প্রচুর খেজুর পেকেছে। তাই কিছু খেজুর পাড়ছি। খেজুরগুলো খুবই মিষ্টি ও সুস্বাদু। পরিবারের সবাই খাবে বলে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি।”

তারই আরেক বন্ধু সাজিদ হোসেন বলেন, “আমরা তিনজন বন্ধু মিলে খেজুর পাড়তে এসেছি। দেশি খেজুর খেতে খুবই মজা। ছোটবেলা থেকেই এই খেজুর খাই। কিন্তু এখন আগের মতো খেজুর গাছ আর দেখা যায় না। মাঠে অনেক গাছ ছিল, ধীরে ধীরে সেগুলো হারিয়ে যাচ্ছে।”

স্থানীয়দের মতে, একসময় গ্রামের প্রতিটি মাঠের আইল, রাস্তার ধারে এবং খোলা জায়গায় অসংখ্য খেজুর গাছ দেখা যেত। জ্যৈষ্ঠ মাস এলেই এসব গাছে পাকা খেজুরে ভরে উঠত। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কৃষিজমির ব্যবহার পরিবর্তন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং অবহেলার কারণে খেজুর গাছের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। ফলে নতুন প্রজন্ম এর আসল স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামবাংলার এক ঐতিহ্য।

পরিবেশবিদদের মতে, খেজুর গাছ শুধু একটি ফলদ গাছ নয়, এটি গ্রামীণ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই দেশীয় ফল ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের স্বার্থে নতুন করে খেজুর গাছ রোপণ এবং বিদ্যমান গাছগুলো রক্ষায় সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

গ্রামবাংলার প্রকৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা দেশি খেজুর আজও মানুষের শৈশব, স্মৃতি ও আবেগের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। নতুন প্রজন্মের কাছে এই দেশি স্বাদের পরিচয় টিকিয়ে রাখতে এবং ঐতিহ্যবাহী গাছ সংরক্ষণে এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো কেবলই বিদেশি খেজুরে অভ্যস্ত হয়ে পড়বে। আর দেশি খেজুরের গল্পটি হারিয়ে যাবে প্রবীণদের মুখের স্মৃতিচারণে।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)