সাইফুল ইসলাম
মেধার লড়াইয়ে জয়ী ১০৯ জন শিক্ষার্থীর হাতে প্রাপ্তির স্বীকৃতি তুলে দেন ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ এমপি ছবি: ধ্রুব নিউজ
স্মার্টফোনের আসক্তি থেকে শিশুদের দূরে রাখা সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
-ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ এমপি
হাতে ক্রেস্ট আর মুখে বিজয়ের হাসি—এমনই এক আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হলো স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান। শনিবার শহরের যশোরের একটি মিলনায়তন মুখরিত ছিল একঝাঁক মেধাবী প্রাণের পদচারণায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মেধার লড়াইয়ে জয়ী ১০৯ জন শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে প্রাপ্তির স্বীকৃতি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট চিকিৎসক ও যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ আধুনিক শিক্ষার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোকপাত করেন। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘প্রাইভেট টিউশন আজ অভিভাবকদের জন্য বড় এক আর্থিক ও মানসিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী হওয়ার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই পাঠ্যক্রম শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বর্তমান প্রজন্মের বড় একটি অংশ যখন স্ক্রিনের মায়াজালে বন্দি, তখন ড. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ অভিভাবকদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘ছোট বাচ্চাদের মেটা (ফেসবুক) বা স্মার্টফোনের আসক্তি থেকে দূরে রাখা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তির ভালো দিকগুলো গ্রহণ করে এর ক্ষতিকর দিক থেকে সন্তানদের আগলে রাখার দায়িত্ব বাবা-মাকেই নিতে হবে।’
শিশুদের জন্য এই প্রাপ্তির পথটা মোটেও সহজ ছিল না। গত ৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত এই বৃত্তি পরীক্ষায় জেলার প্রায় ৩ হাজারেরও অধিক খুদে মেধাবী অংশগ্রহণ করেছিল। সেখান থেকে সূক্ষ্ম মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে ট্যালেন্টপুলে ২৫ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ৮৪ জনসহ মোট ১০৯ জন শিক্ষার্থীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়।
যশোর ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যান ডা. মিজানুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডা. আনিচুর রহমান ও ডা. ইমদাদুল হক। এ সময় সংগঠনের সদস্য সচিব খালিদ ইবনে খলিল, সহকারী পরিচালক ইসমাইল হুসাইনসহ অন্যান্য দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রাসেল ফারহান।
ফাউন্ডেশনের পরিচালক উবাইদুল্লাহ হুসাইন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির পাশাপাশি নৈতিক চরিত্র গঠনের দিকে নজর দেওয়ার তাগিদ দেন। কেন্দ্রীয় ফাউন্ডেশন সম্পাদক আব্দুল মুহাইমিন প্রধান বক্তা হিসেবে মেধাবীদের দেশ ও জাতির কল্যাণে ব্রতী হওয়ার পরামর্শ দেন।
বক্তারা বলেন, স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন কেবল একটি বৃত্তির নাম নয়, বরং মেধাবীদের আগলে রাখার একটি ভরসা। সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত ও গতিশীল করতে তারা সমাজের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদের আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।