বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

শীতের সকালে পিচঢালা পথে হলুদের মিতালি

শেখ জালাল শেখ জালাল
প্রকাশ : রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর,২০২৫, ০২:৪৯ পিএম
আপডেট : রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর,২০২৫, ০২:৫৪ পিএম
শীতের সকালে পিচঢালা পথে হলুদের মিতালি

❒ যশোরের কেশবপুর উপজেলার গোপসেনা ও রঘুরামপুর গ্রামের মেঠোপথ ছবি: শেখ জালাল

ভোরের ঘন কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল হাওয়ায় যখন থমকে আছে জনজীবন, ঠিক তখনই যশোরের কেশবপুর উপজেলার গোপসেনা ও রঘুরামপুর গ্রামের মেঠোপথ এক মায়াবী রূপ ধারণ করেছে। মাঠের বুক চিরে সগর্বে চলে গেছে ঝকঝকে কালো পিচঢালা পথ, আর তার দুই ধারজুড়ে দিগন্ত বিস্তৃত হলুদের সমারোহ। যেন সবুজের কার্পেটে হলুদ গালিচা বিছিয়ে রেখেছে প্রকৃতি, আর তার মাঝখান দিয়ে এক টানে এঁকে দেওয়া হয়েছে আলপনা ছোঁয়া কালচে রেখা। রাস্তার কালো আস্তর আর হলদে আভার এই যে বৈপরীত্য, তা এখন শুধু পথচারীদের চোখ নয়, হৃদয়ও জুড়িয়ে দিচ্ছে।

যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের রঘুরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বরণডালি পর্যন্ত এক সময়কার কর্দমাক্ত মেঠো পথ এখন সোনালি অতীত। গ্রাম বাংলার সেই মেঠো পথ এখন সগর্বে দাঁড়িয়ে থাকা আধুনিক পিচঢালা রাস্তা। শীতের সকালে সরিষা ফুলের মিষ্টি গন্ধ আর চোখ ধাঁধানো হলুদ রঙের উজ্জ্বলতা এই পথটিকে এক জীবন্ত শিল্পকর্মে রূপান্তর করেছে। মৃদু বাতাসে সরিষা ফুলের দোল খাওয়া আর মৌমাছিদের নিরন্তর গুঞ্জনে পুরো এলাকাটি এখন যেন এক স্বপ্নিল জনপদ।

দৃষ্টিনন্দন সরিষা ফুল      -শেখ জালাল

রঘুরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাস্টার আজিজুর রহমান মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, ‘কুয়াশার ধূম্রজালের ভেতর দিয়ে উঁকি দেওয়া এই হলুদ রঙ পথচারীদের বারবার থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করছে। হিমেল হাওয়ার ঝাপটায় দুলতে থাকা সরিষা ফুলগুলো যেন পথিককে স্বাগত জানাচ্ছে। কনকনে ঠান্ডাকে উপেক্ষা করেই অনেক দর্শনার্থী ভিড় জমাচ্ছেন এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে।’

প্রকৃতির এই রূপের আড়ালে লুকিয়ে আছে কৃষকের স্বচ্ছলতার গল্প। এ বছর যশোর জেলায় রেকর্ড পরিমাণ ৩০,২৬৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে কেশবপুর উপজেলা কৃষি অফিসের লক্ষ্যমাত্রা (১,৫৭০ হেক্টর) ছাড়িয়ে চাষ হয়েছে ২,০৭৫ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৫০৫ হেক্টর বেশি জমিতে হলুদের বিপ্লব ঘটেছে। সরকারি প্রণোদনা, কম খরচ এবং লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা এখন সরিষাকেই গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে দেখছেন।

কৃষক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য যেমন মন ভরাচ্ছে, অন্যদিকে পাকা রাস্তার সুবিধা আমাদের কৃষিপণ্য পরিবহনে নতুন গতি এনেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমরা বাম্পার ফলনের আশা করছি।’

রাস্তা পাকা হওয়ায় স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় লেগেছে ইতিবাচক পরিবর্তনের ছোঁয়া। স্থানীয় বাসিন্দা মাস্টার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আগে এই রাস্তা দিয়ে চলাই ছিল চরম দুর্ভোগের। এখন রাস্তা পাকা হওয়ায় আমাদের যাতায়াতের সুবিধা তো হয়েছেই, সেই সাথে এই দৃষ্টিনন্দন সরিষা ফুলের দৃশ্য এলাকাটিকে পর্যটন কেন্দ্রের মতো সুন্দর করে তুলেছে।’

সরিষা ক্ষেতের এই সৌন্দর্যে বাড়তি প্রাণ যোগ করেছে হাজার হাজার মৌমাছির দল। ফুলের ওপর মৌমাছিদের ওড়াউড়ি আর একঘেয়েমিহীন গুঞ্জনে মুখরিত পুরো প্রকৃতি। এই মৌমাছিরাই কেবল সরিষার পরাগায়ন ঘটাচ্ছে না, বরং গ্রামীণ পরিবেশকে এক সুরময় রূপ দান করেছে।

পিচঢালা রাস্তার আধুনিকতা আর দু-ধারের সরিষা ফুলের এই বৈপরীত্য এই গ্রামীন জনপদকে দিয়েছে এক অনন্য পরিচিতি। প্রকৃতির এই রূপ আর উন্নয়নের মেলবন্ধন—সব মিলিয়ে গ্রাম বাংলার এই চিরাচরিত রূপ যেন এক অনন্য প্রাপ্তি।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 225 x 270 Position (2)
Position (2)