শেখ জালাল
❒ জাগরণী চক্রের বর্ণাঢ্য আনন্দ আয়োজনের একাংশ ছবি: ধ্রুব নিউজ
জানুয়ারির হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশার চাদর ভেদ করে আজ সকালে যশোরের রাজপথে নেমেছিল এক পশলা উৎসবের রঙ। স্রেফ একটি বেসরকারি সংস্থার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নয়, বরং ‘জাগরণের ৫০ বছর’ পূর্ণ করার এক অনন্য মাহেন্দ্রক্ষণ। অর্ধশতাব্দীর এই পথচলাকে উদযাপন করতে আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) যশোর শহর সাক্ষী হলো এক বর্ণাঢ্য আনন্দ আয়োজনের।
সকাল থেকেই শহরের মুজিব সড়কস্থ জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয় প্রাঙ্গণে সাজ সাজ রব। অনুষ্ঠানের প্রতিটি ভাঁজে ছিল ‘৫০’ সংখ্যার এক নান্দনিক ছোঁয়া। ঠিক যখন ঘড়ির কাঁটায় উৎসবের সূচনা হলো, সমবেত ৫০ জন সংগীতশিল্পীর কণ্ঠে আকাশ-বাতাস মুখরিত করে বেজে উঠল জাতীয় সংগীত। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সেই মুহূর্তটি যেন গত পাঁচ দশকের নিরলস সংগ্রামের প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আজাদুল কবির আরজুর সাথে সতীর্থরা : হারুন অর রশিদের ফেসবুক থেকে নেয়া
সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি তৈরি হলো যখন পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ৫০ জন সুবিধাভোগী সদস্যকে সাথে নিয়ে ৫০টি কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে দিলেন আকাশের পানে। কুয়াশাচ্ছন্ন ধূসর আকাশে সেই রঙিন বেলুন আর মুক্ত ডানার কবুতরগুলো যেন বার্তা দিচ্ছিল—জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন গত ৫০ বছর ধরে এভাবেই মানুষের স্বপ্নকে ডানা মেলতে শিখিয়েছে।
সকাল ১০টায় শুরু হওয়া বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি যখন শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানা মোড়, চিত্রা মোড় ও চৌরাস্তা প্রদক্ষিণ করছিল, তখন পথের ধারের সাধারণ মানুষও থমকে দাঁড়িয়েছিল। পাঁচ শতাধিক মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত এই মিছিলে ছিলেন সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। কেউ হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে, কেউ হাসিমুখে দীর্ঘদিনের পথচলার স্মৃতি স্মরণ করে অংশ নিয়েছেন এই ‘জাগরণ জয়যাত্রা’য়।
সংস্থার সভাপতি অধ্যাপক কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উঠে আসে জাগরণী চক্রের লড়াইয়ের ইতিহাস। প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আজাদুল কবির আরজু যখন স্মৃতিচারণ করছিলেন, তখন যেন চোখের সামনে ভেসে উঠছিল শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দারিদ্র্য বিমোচনে সংস্থাটির প্রান্তিক মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের চিত্র। বক্তারা দৃঢ় কণ্ঠে জানালেন, এই সুবর্ণ জয়ন্তী কেবল উদযাপনের নয়, বরং আগামীতে আরও বড় পরিসরে জনকল্যাণমূলক কাজে নিজেকে উৎসর্গ করার এক নতুন শপথ।