❒ রোববার থেকে কমতে পারে তাপমাত্রা, রয়েছে বৃষ্টির সুখবর
তহীদ মনি
গরমে হাসপাতালে বাড়ঝে রোগীর সংখ্যা, শিশুরা বেশি রোগে আকান্ত হচ্ছে ছবি: ধ্রুব নিউজ
গত দুদিন ধরে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সতর্কবার্তা ছড়িয়ে পড়েছে—যেখানে আগামী ১৫ দিন সবাইকে সাবধানে থাকতে এবং বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হতে বলা হচ্ছে। এমনকি তাপমাত্রা ৫০ থেকে ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে বলেও দাবি করা হচ্ছে। যাচাই না করেই অনেকে সেই পোস্ট শেয়ার করে জনমনে আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন। তবে এই পূর্বাভাসকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে দাবি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, বাংলাদেশে এ যাবৎকালে তাপমাত্রা কখনোই ৫০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছায়নি। দেশে এ পর্যন্ত রেকর্ডকৃত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এবারও তাপমাত্রা সেই পর্যায়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। বরং আগামীকাল রোববার থেকে তাপমাত্রা কমে আসার পাশাপাশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে গরমের তীব্রতা ও কড়া রোদে জনজীবন ও প্রাণিকুল ওষ্ঠাগত। রাতেও ভ্যাপসা গরমে যশোরের বাসিন্দাদের নাভিশ্বাস উঠছে। বিশেষ করে শহরের ঘিঞ্জি পরিবেশে বসবাসকারী ও এসিহীন মানুষদের কষ্ট চরমে পৌঁছেছে। এর সঙ্গে মশার উপদ্রব যুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। এই অসহনীয় পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
যশোর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিস শনিবার দুপুরে জানায়, শুক্রবার যশোরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা শনিবার বেলা ৩টাতেও অপরিবর্তিত ছিল। তবে শনিবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিস আরও জানায়, ২৬ এপ্রিল থেকে ৭ মে পর্যন্ত সারাদেশে বৃষ্টির প্রভাব থাকতে পারে। এ সময় আকাশে মেঘ ও ঝড়ো বাতাস থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ৭ মে-র পর তাপমাত্রা পুনরায় কিছুটা বাড়তে পারে।
এদিকে ঢাকা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা জানান, বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ৪৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। চলতি বছরে ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা ওঠার কোনো পূর্বাভাস নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২৮ এপ্রিল থেকে ১২ মে পর্যন্ত তাপমাত্রা ৫০-৫৫ ডিগ্রিতে ওঠার যে খবর ছড়ানো হচ্ছে, তাকে স্রেফ ‘ভিউ বাড়ানোর কৌশল’ এবং বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা বলে মন্তব্য করেন এই আবহাওয়াবিদ। তিনি আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আগামীকাল থেকে দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং এর ফলে তাপমাত্রাও সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।”