Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

মুক্তেশ্বরী নদী ও জিয়া খাল গ্রাসে যশোরে স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা, প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি, ৫ দফা দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : রবিবার, ৭ জুন,২০২৬, ০২:৫৩ পিএম
মুক্তেশ্বরী নদী ও জিয়া খাল গ্রাসে যশোরে স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা, প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি, ৫ দফা দাবি

‘মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলন’-এর ব্যানারে যশোর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়। ছবি: ধ্রুব নিউজ

যশোরের মুক্তেশ্বরী নদী ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক 'জিয়া খাল' প্রভাবশালী মহলের অবৈধ দখলে চলে যাওয়ায় যশোর অঞ্চল এক ভয়াবহ ‘পরিবেশগত বিপর্যয়ের’ মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। সিএস রেকর্ড জালিয়াতি করে নদীর শ্রেণী পরিবর্তন, আবাসন ও স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের ফলে নদীটি এখন মৃতপ্রায়। এর ফলে যশোর পৌরসভা, সেনানিবাস এবং বিল হরিণা সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় স্থায়ী ও কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এই সংকট থেকে নদী ও জনপদ রক্ষায় আজ দুপুরে ‘মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলন’-এর ব্যানারে যশোর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়েছে। স্মারকলিপিতে নদী ও খাল উদ্ধারসহ স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ দফা দাবি জানানো হয়।

আন্দোলনকারীদের দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে জানা গেছে, মুক্তেশ্বরী নদী একসময় যশোরের দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও পানি নিষ্কাশনের মূল ধমনী ছিল। কিন্তু গত কয়েক দশকে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র সিএস রেকর্ড সম্পূর্ণ অমান্য করে, ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে নদীর জমি আত্মসাৎ করেছে। নদীর সীমানা ভরাট করে একের পর এক স্থায়ী স্থাপনা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

একই অবস্থা দাঁড়িয়েছে ঐতিহাসিক ‘জিয়া খাল’-এর। উজান থেকে পানি নেমে যাওয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমটি এখন কতিপয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে। ফলস্বরূপ, সামান্য বৃষ্টিতেই যশোর শহরসহ বিল হরিণা অঞ্চলে পানি জমে যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও কৃষি উৎপাদনকে পঙ্গু করে দিচ্ছে।

এই পরিস্থিতি উত্তরণে স্মারকলিপিতে উত্থাপিত ৫ দফা দাবিগুলো হলো:

সিএস রেকর্ড অনুযায়ী মুক্তেশ্বরী নদীর সীমানা নির্ধারণ করে সকল অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ এবং নদী পুনঃখনন করা।
ঐতিহাসিক জিয়া খাল অবিলম্বে সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করে পুনঃখনন করা।
উজানে ভৈরব নদীর সঙ্গে মুক্তেশ্বরী নদীর সংযোগ পুনঃস্থাপন করে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা।
নদী ও খাল গ্রাসকারী ভূমিদস্যুদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোর সঙ্গে উজানের নদীর সংযোগ ঘটিয়ে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য সচিব রাশেদ খান, হারুন অর রশিদ, অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, জিল্লুর রহমান ভিটু, আবু হাসান এবং বিল হরিণা বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক আহাসান উল্লাহ ময়না।

এছাড়াও শাহজাহান আলী, হাচিনুর রহমান, অ্যাডভোকেট আবু কায়েস, শরিফ আহমেদ বাপ্পি, মুস্তাফিজুর রহমান কবির, যোগেষ দত্ত, শেখ আলাউদ্দিন, রিয়াদ রহমান, অ্যাডভোকেট ইমরান খান, ইব্রাহিম খলিল, রিয়াদ রায়হানসহ যশোরের বিভিন্ন পেশাজীবী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং ভুক্তভোগী স্থানীয় জনসাধারণ এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে এই নদী ও খাল দখলমুক্ত করা না হলে পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য ভেঙে পড়বে।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)