নিজস্ব প্রতিবেদক
বিদেশগামী নারী ও শিশু অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় যশোরে কর্মশালা । ছবি: ধ্রুব নিউজ
বিদেশগামী নারী ও শিশু অভিবাসীদের নিরাপদ অভিবাসন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অধিকার সুরক্ষায় যশোরে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিদেশে যাওয়ার আগে যথাযথ প্রশিক্ষণ, ভাষাজ্ঞান এবং বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় অভিবাসীরা নানা ধরনের ঝুঁকি ও বঞ্চনার শিকার হন। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দক্ষতা অর্জন করার লক্ষে শিশু নিলয় ফাউন্ডেশন কাজ করছে।
তারই ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) যশোর শিশু নিলয় ফাউন্ডেশনের হলরুমে আয়োজিত এ কর্মশালার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার। তিনি বলেন, “শুধু একটি কাজের ওপর নির্ভরশীল হলে চলবে না, বিকল্প পরিকল্পনা রাখতে হবে। অনেকেই টিকটক-ফেসবুকে বিদেশের চাকচিক্য দেখে নিয়ম না মেনে বিদেশে যান। কিন্তু প্রশিক্ষণ না থাকায় সেখানে গিয়ে বিপদে পড়েন। প্রশিক্ষণ ছাড়া ভালো বেতনের চাকরি ও ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় না।”
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘ইমপ্রুভড সাসটেইনেবল রিইন্টিগ্রেশন অব বাংলাদেশি রিটার্নি মাইগ্রেন্টস (প্রত্যাশা-২)’ প্রকল্পের আওতায় বিদেশ-ফেরত নারী ও শিশু অভিবাসীদের অধিকার বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
ব্র্যাকের ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর মো. আল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের (টিটিসি) অধ্যক্ষ প্রকৌশলী গাজী ইকফাত মাহমুদ। তিনি বলেন, “ভাষা না জেনে এবং দালালদের খপ্পরে পড়ে বিদেশ যাওয়া আত্মঘাতী। বিশেষ করে নারীরা প্রশিক্ষণ ও ভাষাজ্ঞান ছাড়া বিদেশে গিয়ে নিজেদের প্রাপ্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।”
জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক রাহেনুর ইসলাম বলেন “২০২৩ সালে প্রায় তিন হাজার নারী কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই বিদেশে গেছেন। ভাষা ও কাজের দক্ষতা না থাকায় তারা বিপদে পড়েছেন।” তিনি আরও বলেন, নারীদের বৈধ পথে বিদেশে যাওয়া এবং নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে দেশে ফিরে তারা সেই অর্থ উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের এমআরএসসি কো-অর্ডিনেটর রবিউল ইসলাম রুবেলের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের সিনিয়র অফিসার তানজিন সুলতানা সেঁজুতি। কর্মশালায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং বিদেশ-ফেরত অভিবাসী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
ধ্রুব/এস.আই