টিবিএস
ছবি: এআই প্রণীত
অভিভাবকরা ডিজিটাল স্ক্রিনে অতিরিক্ত সময় কাটানো, খারাপ সঙ্গ এবং কিশোর গ্যাং নিয়ে থাকেন চিন্তিত। অথচ অনেক শিশুই বড় হয় পাঠ্যবইয়ের বাইরে অন্য কোনো বই পড়া, খেলার মাঠ কিংবা সময় কাটানোর নিরাপদ জায়গা ছাড়া। কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের মাঝে এবার পরিবার, বিদ্যালয় এবং রাষ্ট্রের ভূমিকা আলোচনায় আনা জরুরি।
বাংলাদেশ তার কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মুখোমুখি হচ্ছে। সম্প্রতি কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যা মামলার ঘটনাটি কিশোর অপরাধ ও শিশুদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ভয়কে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই মাসের মধ্যে ১৫,৭১৭ জন নিখোঁজ শিশুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৫,২৪৩ জনেরই বয়স ছিল ১০ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। পুলিশ সদর দপ্তরের দেওয়া এই পরিসংখ্যান প্রকাশের সময় পর্যন্ত ১৩,৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বা তারা ঘরে ফিরে এসেছে, তবে ২,০৩৮ জন নিখোঁজই রয়ে গেছে।
একই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথাকথিত 'কিশোর গ্যাং'-এর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাম্প্রতিক তালিকায় রাজধানীতে ১২২টি সক্রিয় অপরাধী গ্যাং শনাক্ত করা হয়েছে।
তবে বয়সের শ্রেণিবিন্যাসই এই ‘কিশোর’ শব্দটি নিয়ে সংশয় তৈরি করে। ৮৯৩ জন গ্যাং সদস্য, যাদের বয়স রেকর্ড করা হয়েছে, তাদের মধ্যে মাত্র ১৫২ জন (বা প্রায় ১৭%) ছিলেন ১৮ বছরের নিচে। অন্যদিকে ৩২২ জনের বয়স ছিল ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। ছিনতাই ও মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে চাঁদাবাজি ও ভাড়াটে খুনের মতো অপরাধে এরা জড়িত। পুলিশ ও গবেষকরা এই অপরাধের পেছনে বয়স্ক অপরাধী ও প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষকদের সম্পৃক্ততার দিকেও নির্দেশ করেছেন।
গুরুতর অপরাধে জড়িত কিশোরদের আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। কিন্তু সাধারণ একটি রামদা হাতে কোনো কিশোরের ছবিতেই এই আলোচনা থেমে থাকতে পারে না। সমস্যাটিকে ভিন্নভাবে দেখার সুযোগ রয়েছে: রাষ্ট্র তাদের জন্য কোন বিকল্প পথগুলো খোলা রেখেছে?
খেলাধুলা ও বই পড়ার জায়গার অভাব
গত জুনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেয়। একই সাথে নির্দেশে উল্লেখ করা হয় যে, প্রায় ১১,০০০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো খেলার মাঠ নেই।
সরকার ১০১টি পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, অন্যদিকে মাঠ থাকা বিদ্যালয়গুলোকে সেগুলো ব্যবহারের উপযোগী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলোই মূলত অভাবের পরিধিকে স্পষ্ট করে তোলে।
একটি ফুটবল মাঠ কেবল খেলোয়াড় তৈরি করে না; এটি ১৪ বছরের এক কিশোরকে অনুকরণীয় আদর্শ ও একটি সামাজিক পরিচয়ের সুযোগ করে দেয়। ক্রিকেট, সাঁতার, স্কাউট, থিয়েটার, গান, বিতর্ক এবং আলোকচিত্রের ক্ষেত্রেও বিষয়টি সত্যি। যখন এমন সুস্থ চর্চার সুযোগগুলো হারিয়ে যায়, তখন কিশোররা তাদের মেলামেশার প্রয়োজন থামিয়ে রাখে না, তারা সেটা অন্য কোথাও খুঁজে নেয়।
২০২৬ সালের "টুওয়ার্ডস আ চাইল্ড অ্যান্ড ইউথ-ফ্রেন্ডলি ঢাকা: কো-ক্রিয়েটিং আ রায়ের বাজার টু গ্রো আপ ইন" শীর্ষক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার মাত্র ২ শতাংশ শিশুর খেলার জায়গা ও পার্কে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। রায়ের বাজারে জরিপ করা প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে মাত্র ৪ জনকে একা বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হতো, আর ৩০ শতাংশ শিশু একেবারেই বাইরে খেলত না। অভিভাবকরা এর কারণ হিসেবে অনিরাপদ সড়ক, দুর্ঘটনা, কিশোর গ্যাং এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে যৌন হয়রানির ভয়কে উল্লেখ করেছেন।
সমস্যাটি কেবল খেলার মাঠে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশ শিক্ষাকে গুরুত্ব দেয়, তবে তার মানে এই নয় যে এখানে বই পড়ার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের একটি গবেষণা "কাল্টিভেটিং আ রিডিং কালচার: হাউ প্যারেন্টস পারসেপশনস অফ রিডিং শেপ দেয়ার প্র্যাকটিসেস ইন বাংলাদেশ"-এ দেখা গেছে, বহু অভিভাবক বই পড়াকে মূলত একাডেমিক কার্যক্রম হিসেবে দেখেন। গল্পের বইকে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার ব্যাঘাত হিসেবে গণ্য করে অভিভাবকরা অনেক সময় পাঠ্যবইয়ের বাইরের বই পড়ার সুযোগ সীমিত করে দেন।
এর ফল হলো এক ধরণের বৈপরীত্য: শিশুরা পড়াশোনার প্রচণ্ড চাপে থাকলেও আনন্দের জন্য বই পড়ার অভ্যাস খুব কমই গড়ে তোলে।
লাইব্রেরি এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশে মোবাইল লাইব্রেরি ৭৬টি গাড়ির মাধ্যমে প্রায় ৩,২০০টি স্থানে সেবা দিচ্ছে, আর সরকার প্রতিটি উপজেলায় লাইব্রেরিসহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে।
তবে মূল প্রশ্ন একই থেকে যায়: কিশোর-কিশোরীদের কি এমন উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশ আছে যেখানে তারা প্রতিদিন সহজে যেতে পারে, নাকি এটি খুঁজে নিতে তাদের বিশেষ কোনো চেষ্টা করতে হয়?
বিনোদন যখন মোবাইল স্ক্রিনমুখী
ঢাকায় বিনোদন চর্চা নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে, বাইরের ধুলোবালি থেকে শিশু-কিশোরদের বিনোদন এখন ডিজিটাল গেমের দিকে ঝুঁকছে। প্রযুক্তি, নিরাপত্তার চিন্তা, পড়াশোনার চাপ, পারিবারিক পরিবেশ ও শহরের জীবনযাত্রাকে এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা। তরুণ প্রজন্মের চারপাশের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার একটি উপায় হলো এই ডিজিটাল বিনোদন।
ডিজিটাল জীবন শতভাগ ক্ষতিকর নয়। তরুণরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে শেখে, যোগাযোগ করে, বন্ধু বানায়, শিল্প তৈরি করে ও অনলাইন কমিউনিটি খুঁজে নেয়। কিন্তু স্ক্রিন যখন বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়, তখন এর ভূমিকা বদলে যায়। সমাজ তাদের মেলামেশার পরিবেশ কীভাবে গঠিত হচ্ছে তা না ভেবে কেবল তাদের আচরণ নিয়ে অভিযোগ করে।
অনলাইনে বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে। বাংলাদেশে প্রায় ২৯,০০০ তরুণদের নিয়ে করা ইউনিসেফের এক জরিপে দেখা গেছে, সোশ্যাল মিডিয়ার মানসিক চাপের প্রধান কারণ ভুল তথ্য। উত্তরদাতারা বুলিং, নেতিবাচক মন্তব্য এবং ক্ষতিকর বিষয়বস্তুর কথাও তুলে ধরেছেন।
কাজেই মূল উদ্বেগ কেবল কিশোরদের অনলাইনমুখী হওয়া নিয়ে হওয়া উচিত নয়, বরং অফলাইনে তাদের জীবনে পর্যাপ্ত বিকল্প রয়েছে কি না—সেটাই দেখা দরকার।
ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ ই-জার্নালে প্রকাশিত ২০২৫ সালের একটি গবেষণা "জুভেনাইল ডেলিংকুয়েন্সি: আ স্টাডি অন ইয়ং গ্যাং কালচার ইন ঢাকা সিটি"-তে মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্প ও কামরাঙ্গীরচরের ৮০ জন অপরাধে জড়ানো কিশোরের ওপর জরিপ চালানো হয়। গ্যাং গঠনে ভূমিকা রাখা উপাদানগুলোর মধ্যে "অবসর কাটানোর জায়গা না থাকা" সবচেয়ে বেশি গড় নম্বর (৫-এর মধ্যে ৪.৩৭) পেয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার যোগাযোগ পেয়েছে ৪.১২, স্থানীয় বড় ভাইদের চাপ ৪.০০ এবং অ্যাডভেঞ্চারের জন্য যোগ দেওয়া পেয়েছে ৩.৯৬।
এর মানে এই নয় যে খেলার মাঠের অভাব সরাসরি অপরাধ ঘটায়। গবেষণায় কেবল অপরাধে জড়িত ছেলেদের ওপর কাজ করা হয়েছিল, যা ঢাকার সব কিশোরের প্রতিনিধিত্ব করে না। এতে অর্থনৈতিক, পারিবারিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণও চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে কিশোর গ্যাং নিয়ে আলোচনায় প্রায়শই বাদ পড়া প্রশ্নগুলোকে এটি সামনে আনে: তরুণরা তাদের অবসর সময় কোথায় কাটায়, সেখানে তারা কী করতে পারে এবং কার সাথে কাটায়।
গ্যাংয়ের ভেতর সামাজিক পরিচয় খোঁজা
ঠিক এখানেই কিশোর গ্যাং সম্পর্কিত আলোচনাটি আরও জটিল রূপ নেয়।
গ্যাংয়ে জড়িয়ে পড়াকে কেবল ফুটবল মাঠের ঘাটতি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে না। দারিদ্র্য, পারিবারিক অস্থিরতা, স্কুল ড্রপআউট, মাদক, অপরাধের নেটওয়ার্ক ও স্থানীয় ক্ষমতার কাঠামো এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখে।
তবে সামাজিক পরিচয়ের অনুভূতিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। সহজ কথায়, একটি গ্যাং একজন কিশোরকে কিছু বিষয় দেয়—বন্ধুত্ব, নিজস্ব পরিচয়, নিরাপত্তা, মর্যাদা, সামাজিক উত্তেজনা এবং এলাকায় পরিচিতি।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ড. হেলাল উদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন, সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে বন্ধু ও সহপাঠীদের কাছে স্বীকৃতি পাওয়া কিশোর-কিশোরীদের কাছে অনেক বড় বিষয়।
তিনি বলেন, "এটি পিয়ার রিকগনিশন বা সমবয়সীদের স্বীকৃতির মাধ্যমে চালিত হয়। লাইক ও ফলোয়ার বাড়ার সাথে সাথে তারা নিজেদের সমমনাদের মধ্যে হিরো হিসেবে দেখতে শুরু করে। এই ধারণাটি যত গভীরভাবে গেঁথে যায়, অস্বাভাবিক আচরণগুলো তাদের জীবনের অংশ হয়ে ওঠে।"
তাঁর মতে, তরুণদের কেবল এই ধরনের আচরণ সম্পর্কে সতর্ক করাই যথেষ্ট নয়।
"আমাদের কাজ হলো তাদের ধ্বংসাত্মক সংস্কৃতি থেকে সরিয়ে এনে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করে দেওয়া। এটি একটি বড় সামাজিক সমস্যা। আমাদের 'কূল' বা আকর্ষণীয় হওয়ার একটি বিকল্প সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে—যা স্মার্ট, যোগ্য ও প্রশংসনীয় হওয়ার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে।"
বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান পদক্ষেপ মূলত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রয়োগের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিভিন্ন জেলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শত শত তরুণকে আটক করা হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ গ্যাং নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
অপরাধ সংঘটিত হলে পুলিশের পদক্ষেপ প্রয়োজন। তবে পুলিশ মূলত প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে গিয়ে পৌঁছায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম সোহাগ যুক্তি দেন যে, পদক্ষেপ আরও আগেই শুরু করা উচিত।
তিনি বলেন, "শিশুদের এই দলগুলোর দিকে ঠেলে দেওয়া অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ—যেমন দারিদ্র্য, বেকারত্ব, স্কুল থেকে ঝরে পড়া, শিশুশ্রম ও নিরাপদ বিনোদনের জায়গার অভাব সমাধান করা সরকারের প্রয়োজন।"
২০২৫ সালে KrimOJ-এ প্রকাশিত গবেষণা "ব্যাড ইউথ: দ্য ইফেক্টস অফ ফ্যামিলি ডাইনামিক্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল প্যাট্রোনেজ অন জুভেনাইল গ্যাং ক্রাইম ইন ঢাকা, বাংলাদেশ"-এ দেখা গেছে কীভাবে স্বীকৃতির এই তৃষ্ণা একটি সংগঠিত গ্যাং কাঠামোর সাথে মিলে যায়। গ্যাং সদস্য, অভিভাবক ও পুলিশের সাক্ষাৎকারে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত পারিবারিক যত্ন না পাওয়া ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে কিশোররা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং অন্য জায়গায় পরিচয় ও আশ্রয় খুঁজতে থাকে। দারিদ্র্য সেই অবস্থানকে আরও গভীর করতে পারে, অন্যদিকে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা তাদের সংঘাত ও চাঁদাবাজির সুযোগ তৈরি করে দেয়।
মিরপুরের এক গ্যাং সদস্যের সহজ কথা: "আমি শুধু চেয়েছিলাম কেউ যেন আমার দিকে একটু মনোযোগ দিক এবং আমি যা বলি তা শুনুক।" সেই মনোযোগ সে খুঁজে পেয়েছিল গ্যাংয়ের ভেতরে। তবে এই আশ্রয় অন্য এক ব্যবস্থার সাথে যুক্ত হয়; গবেষণায় জানা যায় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা এই তরুণদের রক্ষা করে আবার ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতায় ব্যবহার করে।
২০২৩ সালের এক গবেষণাপত্র "অ্যাসেসিং জুভেনাইল গ্যাং কালচার ইন বাংলাদেশ ফ্রম ইউথ ডেভেলপমেন্ট কনটেক্সট"-এ সমস্যাটিকে যুব উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে প্রায় ৫ কোটি৭১ লক্ষ শিশু রয়েছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
গবেষণাপত্রটি অপ্রতুল বিনোদন, অভিভাবকদের অপর্যাপ্ত নজরদারি, সোশ্যাল মিডিয়া, মাদক ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতাকে গ্যাং সংস্কৃতির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পুলিশি ব্যবস্থার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা, ব্যায়াম, পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন জোরদার করা এবং দক্ষতা উন্নয়নের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এতে। কেবল আইনের প্রয়োগ সমস্যার একাংশের সমাধান করতে পারে।
সবচেয়ে কঠিন কাজ শুরু হয় একজন পুলিশ কর্মকর্তা হস্তক্ষেপ করার অনেক বছর আগে। শিশুটির জন্য খেলার নিরাপদ জায়গা আছে কি না, স্কুলে খেলাধুলা ও সংস্কৃতির মূল্যায়ন করা হয় কি না, বই পড়ার সুযোগ রয়েছে কি না এবং মেলামেশা করার পরিবেশ আছে কি না—সেখান থেকেই শুরু হয় মূল কাজ।
বাংলাদেশ জানতে চায় কিশোর-কিশোরীরা কেন স্ক্রিনে এত সময় ব্যয় করে, কেন কেউ কেউ গ্যাংয়ে যোগ দেয় এবং কেন তারা সুস্থ সামাজিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন বলে মনে হয়। সমাজ চায় কিশোররা যেন ভালো বিকল্পগুলো বেছে নেয়। প্রশ্ন হলো: রাষ্ট্র কি সেই বিকল্পগুলো তাদের জন্য সত্যি তৈরি করে রেখেছে?