Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

মাউন্ট ফুজির চূড়ায় উঠতে ক্লান্ত ৭ বছরের ছেলেকে মাঝপথে একা ফেলে গেলেন বাবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : রবিবার, ২৩ আগস্ট,২০২৬, ০১:২১ পিএম
মাউন্ট ফুজির চূড়ায় উঠতে ক্লান্ত ৭ বছরের ছেলেকে মাঝপথে একা ফেলে গেলেন বাবা

জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট ফুজি। ছবি: সংগৃহীত

ক্লান্ত হয়ে পড়ায় মাত্র ৭ বছর বয়সী ছেলেকে জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট ফুজি-র ওপরে একটি মাত্র কোমল পানীয় ও হালকা খাবার দিয়ে কয়েক ঘণ্টা ফেলে রেখে চলে যান এক বাবা। 

কুয়াশাচ্ছন্ন ও বৃষ্টিভেজা আবহাওয়ার মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ মিটারেরও বেশি উচ্চতায় মাউন্ট ফুজির একটি বেঞ্চে একা বসে থাকা অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭ বছর বয়সী ওই ছেলেটি আর হাঁটতে না পেরে ক্লান্তির কথা জানালে তার ৪৮ বছর বয়সী বাবা তাকে বলেন, 'এখানেই অপেক্ষা করো।' এরপর তিনি তার বড় ছেলেকে নিয়ে পর্বতারোহণ চালিয়ে যান।

পাহাড়ের চূড়ার দিকে যাওয়ার একটি ট্র্যাকিং রুটের ষষ্ঠ স্টেশনের কাছে শিশুটিকে একা বসে থাকতে দেখে স্থানীয় একটি মাউন্টেন হাটের (পাহাড়ি বিশ্রামাগার) কর্মীরা পুলিশে খবর দেন। পরবর্তীতে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে রুটের সপ্তম ও অষ্টম স্টেশনের মাঝামাঝি জায়গা থেকে ওই বাবাকে খুঁজে বের করে, যা শিশুটিকে রেখে যাওয়া স্থান থেকে প্রায় তিন ঘণ্টার হাঁটা পথ উপরে ছিল।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শিশুটিকে একা উদ্ধার করা হয়।

চূড়া থেকে ফিরে আসার পর পুলিশ কর্মকর্তারা ওই বাবাকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন এবং ছেলের সঙ্গে তাঁর পুনর্মিলন করিয়ে দেন। প্রায় ৮ ঘণ্টা একা অপেক্ষা করার পর উদ্ধার হওয়া শিশুটি অত্যন্ত 'ক্লান্ত ও খিটখিটে' হয়ে পড়েছিল।

সংবাদমাধ্যম 'জাপান টুডে'র তথ্য অনুযায়ী, এক পুলিশ কর্মকর্তা ওই বাবাকে ধমক দিয়ে বলেন, 'একত্রে পাহাড়ে চড়ার পরিকল্পনা বাদ দিতে হলেও দিতে হতো, কিন্তু একটি শিশুকে এভাবে ফেলে রেখে যাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।' পরে নিজের এই 'হঠকারী' সিদ্ধান্তের জন্য পুলিশের কাছে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়েছেন ওই বাবা।

জানা গেছে, পরিবারটি ফুজিনোমিয়া রুট ব্যবহার করছিল, যা পাহাড়ের পঞ্চম স্টেশন থেকে শুরু হয় এবং সেখানে গণপরিবহন ব্যবহার করে পৌঁছানো যায়। পর্বতারোহণ নির্দেশিকা অনুযায়ী, সেখান থেকে চূড়ায় পৌঁছাতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা এবং নিচে নেমে আসতে আরও তিন ঘণ্টা সময় লাগে।

৩,৭৭৬ মিটার (১২,৩৮৯ ফুট) উচ্চতার মাউন্ট ফুজিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্বতারোহীদের অসাবধানতার কারণে বেশ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত জুলাই মাসে ৯৯ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা পাহাড়ে চড়ার সময় পড়ে গিয়ে কোমর ও পিঠে চোট পাওয়ায় তাকে উদ্ধার করতে হয়েছিল।

এছাড়া গত বছর, অফ-সিজনে (পর্বতারোহণের নির্ধারিত সময় ছাড়া) পাহাড়ে চড়তে যাওয়া ২৭ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন খুঁজতে গিয়ে চার দিনের মধ্যে দুইবার উদ্ধার করতে হয়েছিল।

টোকিওর দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট ফুজি ২০১৩ সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের স্বীকৃতি পায়। মাউন্ট টেট এবং মাউন্ট হাকুর পাশাপাশি এটি জাপানের তিনটি ঐতিহ্যবাহী 'পবিত্র পর্বত'-এর অন্যতম। প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ মানুষ এটিতে আরোহণ করেন, তবে অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে বর্তমানে কিছু রুটে দৈনিক দর্শনার্থী প্রবেশের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

 

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)